জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ইমরান খানের
https://parstoday.ir/bn/news/india-i72528-জাতিসংঘে_ভারতের_বিরুদ্ধে_মানবাধিকার_লঙ্ঘনের_অভিযোগ_ইমরান_খানের
কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজ (রোববার) বিকেলে তিনি ওই অভিযোগ করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ০৪, ২০১৯ ১৬:৩২ Asia/Dhaka
  • ইমরান খান
    ইমরান খান

কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজ (রোববার) বিকেলে তিনি ওই অভিযোগ করেন।

ইমরান খান আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে সাধারণ নাগরিকদের উপর যে অত্যাচার চলছে এবং যে ধরনের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং এই ঘটনার নিন্দা করি। এতে ১৯৮৩ কনভেনশনও লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থি, সেজন্য জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বিষয়টিতে নজর দেয়া উচিত।'  

ইমরান বলেন, ‘কাশ্মিরের মানুষের ভোগান্তির দীর্ঘ কালরাত্রির অবসানের সময় এসেছে। নিরাপত্তা পরিষদের চুক্তি মতো তাঁদের স্বতন্ত্রতার অধিকার দেয়া উচিত। কাশ্মির সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানই খুলে দিতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা রাস্তা।’

সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে মধ্যস্থতা করার আবেদন করেছেন। তার ওই মন্তব্যে ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিরোধীরা সংসদে সরকারকে চেপে ধরলে অবশেষ পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ওই ইস্যুতে সাফাই দিয়ে বলতে হয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যস্থতার কথা বলেননি।

যদিও ট্র্যাম্পের ওই দাবিকে ফের খুঁচিয়ে তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। সেটা করার এটাই সময়। কারণ, ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আঞ্চলিক সমস্যা এতে আরও বাড়বে।’

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারিভাবে গত (শুক্রবার) পর্যটক ও অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের কাশ্মির ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে সেখানে নতুন করে কমপক্ষে ৩৫ হাজার অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কাশ্মির জুড়ে নানা গুজব-বিভ্রান্তিসহ চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এদিকে, কেরন সেক্টর দিয়ে পাকিস্তানের দিক থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই পাঁচজনের লাশ পাকিস্তানকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলে ভারতীয় সেনা। সেনার বার্তা ছিল,  সাদা পতাকা অর্থাৎ শান্তির বার্তা দিয়ে পাঁচ জনের লাশ পাকিস্তান নিয়ে যাক।

কিন্তু পাক সেনার মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর শনিবার রাতে বলেন, 'নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এটা ভারতের অপপ্রচার। কাশ্মিরের মূল সমস্যা থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই ভারত ওই পরিকল্পনা করছে। শনিবার মধ্যরাতে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের দাবি অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে ‘নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাকিস্তানের কার্যকলাপ এবং মৃতদেহ নিয়ে ভারত যে দাবি করেছে, আমরা তা অস্বীকার করছি।’

এরপরেই ভারতের অস্বস্তি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণসহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্পের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪