অসমে এনআরসি’র তালিকা প্রকাশের মুখে ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন, ১৪৪ ধারা জারি
-
এনআরসি থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ উদ্বিগ্ন
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে গোলযোগের আশঙ্কায় কমপক্ষে ৬০ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আগামীকাল (শনিবার) এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে।
এদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি রণজিৎ দাসের দাবি, এনআরসি তালিকায় লাখ লাখ বিদেশির নাম থাকার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে, ‘আসু’র সভাপতি দীপাঙ্ক নাথের দাবি, যাদের নাম বাদ যাবে তাদের বাংলাদেশে অথবা ভিন রাজ্যে পাঠাতে হবে। অসমে থাকতে দেয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল অবশ্য বলেছেন, এনআরসিতে নাম না থাকলে শঙ্কিত হবেন না, গুজব ছড়াবেন না। নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সময় দেয়া হবে।
এদিকে, এনআরসি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজব ছড়াচ্ছেন বলে সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব অভিযোগ করেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) নাগপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অমিত শাহকে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছেন। সুস্মিতা দেব বলেন, অমিত শাহকে একটা কথা বলতে চাই। সংসদে দাঁড়িয়ে উনি বলেছিলেন যে ৪০ লাখ লোক এনআরসির বাইরে থেকে গিয়েছিল তারা অবৈধ অভিবাসী। এদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা দরকার। অমিত শাহের এরকম কথা বলা উচিত হয়নি। এ ধরণের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় বলেও সুস্মিতা মন্তব্য করেন।
এদিকে, বিজেপি’র একাংশের পক্ষ থেকে এনআরসিতে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার আশঙ্কা ব্যক্ত করা প্রসঙ্গে অসমের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) দাবি করেছিল এনআরসি ওরা চায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গায়ের জোরে বা এনআরসিতে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মগজ ধোলাই করে অবৈধ বাংলাদেশিদের নামকে তারা অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবেন। কিন্তু ন্যায়পরায়ণ এনআরসি কর্মকর্তাদের জন্য ওদের কুমতলব সফল হয়নি। কুমতলব সফল না হওয়ার ফলে তারা এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) যে দাবি করছে, তার প্রমাণ থাকলে তা সাব্যস্ত করুক। তাছাড়া এনআরসি নবায়ন প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। কেন্দ্রে ও রাজ্যে ওদের সরকার (বিজেপি)। সবকিছুর ব্যবস্থাপনা করেছে ওরা। যদি সেরকম কিছু হয় তাহলে ওদের গাফিলতিই এজন্য দায়ী। যদি ওদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রমাণ থাকে যে এই তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম ঢুকে গেছে তাহলে তা তথ্য প্রমাণসহ পেশ করুক। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকার সবই তো ওদের। ওরা তুলে ধরুক। এরকম তো পাগলের প্রলাপ বকলে চলবে না। একটা প্রবাদ আছে না ছাগলে কী না খায়, আর পাগলে কী না বলে। বিজেপির বেশিরভাগ নেতারাই এরকম করছে বলেও সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।