অসমের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ, বাদ পড়ল ১৯ লাখ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i73244-অসমের_চূড়ান্ত_নাগরিকপঞ্জি_প্রকাশ_বাদ_পড়ল_১৯_লাখ
ভারতের অসমের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ৩১, ২০১৯ ০৭:৫৮ Asia/Dhaka
  • অসমের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ, বাদ পড়ল ১৯ লাখ

ভারতের অসমের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের।

আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় আধা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে অসমের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এনআরসি তালিকায় ওই ১৯ লাখ মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়া হয়েছে। এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি হিন্দু বাঙালি। ছয় লাখের কিছু বেশি মুসলমান। বাকি দুই লাখের মধ্যে রয়েছে বিহারী, নেপালী, লেপচা প্রভৃতি।

এর আগে, এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাদ পড়েছিল ৪৩ লাখ মানুষের নাম। এর মধ্যে দুই লাখ অবাঙালি, ২৬ লাখ হিন্দু বাঙালি, বাকি সব বাঙালি মুসলমান।

চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম উঠেনি তারা এখন আর ভারতীয় নয়, রাষ্ট্রহীন হয়ে গেছেন। তবে নাগরিকত্ব প্রমাণে আপিলের সুযোগ রয়েছে তাদের। ১২০ দিনের ভেতরে আপিল করতে হবে তাদের। যদিও আগের চেয়ে আপিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে চূড়ান্ত ঘোষণাতে।

এনআরসি থেকে বাদ পড়ায় ১৯ লাখ মানুষ আতঙ্কে

অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) সভাপতি দীপাঙ্ক নাথের দাবি, যাদের নাম বাদ যাবে তাদের বাংলাদেশে অথবা ভিন রাজ্যে পাঠাতে হবে। অসমে থাকতে দেয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল অবশ্য বলেছেন, এনআরসিতে নাম না থাকলে শঙ্কিত হবেন না, গুজব ছড়াবেন না। যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাঁদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (এফটি) আবেদন জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণে সরকার তাঁদের প্রত্যেককে সব রকমের সহায়তা দেবে।

অসম পুলিশ জানিয়েছে, এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর কোনো রকম প্রতিবাদ বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। মোট আড়াই হাজার এনআরসি সেবাকেন্দ্র আগলাতে শুরু করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দিসহ স্পর্শকাতর ১৪ জেলার ওপর বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন।

কড়া নিরাপত্তা

এনআরসি প্রকাশ উপলক্ষে অসমজুড়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজ্যের ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এ উপলক্ষে অসমে ২০ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠিয়েছে। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। থমথমে পরিস্থিতি। একসঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

২০১৪ সালের পর থেকে শুরু হয় এনআরসি প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, অসমের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করা। তারাই কেবল নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে সক্ষম হবেন, যারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে আসামে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে পারবেন; যা আসামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্যে খুবই কঠিন। এ বছরের জুনে প্রকাশ করা হয় এনআরসির খসড়া তালিকা। সেখানে বাদ পড়ে ৪২ লাখ মানুষের নাম। যাঁদের অধিকাংশ বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলমান।

অবৈধ অভিবাসীদের ভারত থেকে বের করতে অসম রাজ্যের নাগরিক তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর একেই মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।