অসমে এনআরসি থেকে বাদ ১৯ লাখ মানুষ: প্রতিক্রিয়ায় কে কী বললেন
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা (এনআরসি) ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। আজ (শনিবার) এনআরসি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১। এনআরসি চূড়ান্ত তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেছেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা আগামী ১২০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।
এ ব্যাপারে আজ অসমের কংগ্রেস বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, ‘অসমে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে সেই নিয়মগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও হলফনামা দেয়া হয়নি। তার ফলস্বরূপ কারও কারও বাবা-মায়ের নাম থাকলেও তাদের সন্তানের নাম নেই। কারও স্ত্রীর নাম নেই। যে ১৯ লাখ মানুষের নাম নেই তাদের মধ্যে অধিকাংশই হল ভারতীয়। নাম না থাকার আশঙ্কায় অসমে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমান সরকার কার্যত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে। বর্তমান সরকারকে এনআরসিতে কী কী সমস্যা আছে আদালতে তা হলফনামা দিয়ে জানানো উচিত ছিল। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে যেভাবে এনআরসি প্রক্রিয়াকে কঠোর করে নিয়েছে, সেজন্য মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে আজ (শনিবার) অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি রেডিও তেহরানকে বলেন, এনআরসির যে তালিকা প্রকাশিত হয়ে তা আমরা খতিয়ে দেখব। যদি কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হয় তখন তা বলা যাবে। এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোনও তথ্য না থাকায় অনুমান করে পক্ষপাতিত্বের কথা বলা উচিত নয়। যেসব ভারতীয়র নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে তারা নিশ্চয় সুবিচার পাবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে এনআরসিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।’
এদিকে, বিজেপি’র দিল্লির প্রধান মনোজ তেওয়ারি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে চলে যেতে হবে। মনোজ তেওয়ারি রাজধানী দিল্লিতে এনআরসি কার্যকর করার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, দিল্লির পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে চলেছে। অবৈধ অভিবাসী যাদের এখানে বসানো হয়েছে সেটা খুব বিপজ্জনক। তারা এখানেও এনআরসি কার্যকর করবেন বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, অসমের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা গতকাল (শুক্রবার) বলেন, এনআরসি নিয়ে উৎফুল্লিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে যাদের নাম কাটার জন্য আশা করে আসছি, আজ তাদের নাম এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হলো।’
বিদেশি বিতাড়নে এনআরসি সফল হয়নি, সেজন্য বিদেশি বিতাড়ন করবার ‘নতুন চিন্তাধারা’ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশিদের বহিষ্কার করতে এনআরসি কোনও কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল নয়। অপেক্ষা করুন, আপনারা বিজেপির শাসনে আরও ফাইনাল দেখতে পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীর এ ধরণের মন্তব্যে নয়া জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, অসমে বাঙালিদের অন্যতম মুখ ও অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর তপোধীর ভট্টাচার্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালিদেরই টার্গেট করা হচ্ছে বলে মনে করছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা বিশেষ ভাষাগোষ্ঠীর ১৯ লাখ মানুষই যদি বাদ পড়ে যায় তাহলে আর থাকল কারা? যে জাতিবিদ্বেষ সংবিধানিক রীতির উপরে চলে যায়, গণতান্ত্রিক রীতির উপরে চলে যায়, এটা তো তারই জয় হল! এটা তো অন্ধকারের জয়!’ আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। লড়াইটা কয়েক দশক ধরেই চলবে বলেও তপোধীর বাবু মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।