এনআরসির জাঁতাকলে পড়ে যারা ভুগছে তাদের জন্য খারাপ লাগছে: মমতা
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রকৃত ভারতীয় যাতে এনআরসি থেকে বাদ না পড়ে, তা কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ায় মমতা তার তীব্র সমালোচনা করেন।
আজ (রোববার) বিজেপির নাম না করে মমতা বলেন, ‘এনআরসির নামে যারা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাচ্ছে, তাদের ব্যর্থতাই এবার সামনে এসেছে। দেশের মানুষকে এর উত্তর দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিকে বড় করে দেখলে এমনই হয়। খারাপ লাগছে আমার বাংলাভাষী ভাইবোনের জন্য। যাদের এই এনআরসির জাঁতাকলে পড়ে ভুগতে হচ্ছে।’
মমতা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমি জানতাম না নাগরিকপঞ্জির গোটা বিষয়টি। এখন জানতে পারলাম, প্রায় এক লাখ গোর্খাদের এই তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক, সিআরপিএফ, সেনা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের পরিবারের নামও নেই এই নাগরিকপঞ্জিতে।’
বিগত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে নাগরিক পঞ্জিকে হাতিয়ার করেই ঝড় তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। যদিও চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জিতে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়ায় অসমের বিজেপি নেতারাই এনআরসিতে অনাস্থা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন যাতে দলটির মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে।

দুর্নীতি করে নাগরিক পঞ্জি তৈরি হয়েছে: বিজেপি বিধায়ক
অসমের বিজেপি বিধায়ক শিলদিত্য দেবের দাবি, দুর্নীতি করে তৈরি করা হয়েছে নাগরিক পঞ্জি। মানুষ চেয়েছিলেন অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে ত্রুটিমুক্ত নাগরিকপঞ্জি তৈরি হোক কিন্তু আদতে তা হয়নি।
অসমের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের আগে শরণার্থী পরিচয়ে যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন, নাগরিকপঞ্জিতে তাঁদের নাম নেই। কারণ, এনআরসি কর্তৃপক্ষ তাঁদের শরণার্থী শংসাপত্রকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছেন। বহু প্রকৃত ভারতীয়ই এনআরসি তালিকার বাইরে থেকে গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তথ্য জালিয়াতি করে নাগরিকপঞ্জিতে নিজের নাম তোলা হয়েছে।’
তাঁর প্রশ্ন- বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাতিল করার ক্ষেত্রে এই তালিকা আদৌ কাজে লাগবে? ওই তালিকার উপরে তিনি ভরসা রাখছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আজ (রোববার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সমাজকর্মী, ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপির পরিবর্তিত নাম হচ্ছে ‘ব্লান্ডার জুমলা পার্টি’। যারা নোটবন্দিতে, জিএসটিতে, কাশ্মীরে মহাভুল করেছে। ওরা কেবল প্রথম পদক্ষেপ দেখতে পায়, পরেরগুলো দেখতে পায় না। ওদের কোনও দূরদর্শিতা নেই। ওরা শিশুসুলভভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায়। প্রতিহিংসার রাজনীতি তাঁদের দিকে ব্যাক ফায়ার করেছে। তাঁরা ভেবেছিল মুসলিমরা সব অনুপ্রবেশকারী প্রমাণিত হবেন। তাঁদের ওই ধারণা অত্যন্ত ভুল। ভারতে যে মুসলিমরা বাস করেন তার প্রায় শতকরা নিরানব্বই শতাংশ বা তার বেশি এদেশের নাগরিক। হিন্দুরা যে কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছেড়ে চলে এসেছে, ধর্মীয় তথাকথিত অত্যাচারের কথায়। একই কারণে সেখানকার মুসলিমরা ভারতে কোনোদিনই আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘এনআরসিতে অন্তত প্রমাণ হয়েছে মুসলিমদের একটা বিরাট অংশ অনুপ্রবেশকারী নয়। এটা হচ্ছে তাঁদের (বিজেপি) সবচেয়ে বড় জ্বালা। দ্বিতীয়ত, তাঁরা খেয়াল করেননি যে, অসমীয়াই হোন আর উপজাতিই হোন তাঁদের অনেকেই ভূমিহীন মানুষ। ভারতের প্রতি তিনজনের একজন হচ্ছেন ভূমিহীন। তাঁদের কাছে জমির দলিল কীভাবে থাকবে? এগুলোর জন্যই তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন লিগ্যাসি ডাটা, জমির দলিল ইত্যাদি। এরা খেতে পায় না, পোশাক পর্যন্ত পায় না তাঁরা কাগজপত্র গুছিয়ে রাখবেন আশা করা যায় কী করে? এনআরসি বিজেপি’র মুখোশ উন্মোচনে সাহায্য করেছে। তাঁরা স্বখাত সলিলে ডুবেছে। তাঁরা আর একটা মিথ্যে ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে এর বেশি কিছু না। তাঁরা এটা খুব ভালো করেই জানত যে এই নামগুলো বাদ যাচ্ছে, সেজন্য তাঁরা অনেক আগেথেকেই হইচই করেছিল। আবার ওই লোকগুলোর কাছ থেকে টাকা আদায় করবে, ঘুষ ও ভোট আদায় করবে বলে এনআরসি ভুল বলে লাফাচ্ছে। যদি তাঁরা এত কিছুই চায় তাহলে তাঁরা নাগরিকত্ব বিল পাস করেনি কেন? ৩৬ টা বিল তো সংসদে পাস হয়েছে। আসলে তাঁরা ‘খুড়োর কল’ করে রাখতে চায়।’
ভারতে প্রবল আর্থিক মন্দা চলছে তাঁকে ঢাকা দেয়ার জন্য এনআরসি, তাঁকে ঢাকার জন্য কাশ্মীর, তাঁকে ঢাকার জন্য চিদম্বরম ইত্যাদি চলবে। সেজন্য বিজেপির নাম পাল্টে ব্লান্ডার জুমলা পার্টি হওয়া উচিত বলেও ড. ইমানুল হক মন্তব্য করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।