'কেন্দ্র ও রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার সত্ত্বেও এনআরসি হিন্দুবিরোধী হবে কিভাবে?'
-
মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসিকে ‘হিন্দুবিরোধী’ বলে অভিহিত করায় অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তা প্রত্যাখ্যান করে একে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছে।
আজ (মঙ্গলবার) অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আগে বিজেপি এ ধরণের কথা বলছিল। তাঁরা এখন বলছে হিন্দুবিরোধী। তাঁদের বক্তব্যে এসেছিল এটা ‘মুসলিমবিরোধী’ হওয়া উচিত। তাঁরা এটা চেয়েছিল কিন্তু সেটা হয়নি। এখন তাঁরা একে ‘হিন্দুবিরোধী’ বলছে। এ ব্যাপারে আমাদের স্থিতি হল এগুলো আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, এ ধরণের মন্তব্য ‘ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বিরোধী কথা’। এ ধরণের কথাবার্তা বন্ধ হওয়া উচিত। এনআরসি ভারতের বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের মাথা থেকে যে বিদেশির দুর্নাম-অপবাদ তা সরিয়ে দেয়া। বিদেশির নামে বিগত চল্লিশ বছরে অসমের সমাজ জীবনকে যেভাবে অশান্ত করে রেখেছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেই অশান্তি থেকে অসমের সমাজ জীবনকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার জন্য আমরা জমিয়তে উলামা বিগত দিন থেকে এনআরসির পক্ষে ছিলাম। এবং আমরা বারবার এ কথা বলেছি এনআরসি’র যে কাজ চলছে সেটা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সঠিকভাবে কাজ চলছে। আমাদের সেই স্থিতি আজও আছে।’
জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘যারা ‘হিন্দুবিরোধী এনআরসি’র কথা বলছেন তাঁদের কথার যুক্তি কোথায়? যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় আছে এবং তাদেরই আমলা-কর্মচারীরা এনআরসি’র কাজগুলো করেছেন, সেজন্য ওরা এসব কথা কীভাবে বলতে পারেন? তাঁদের দাবির স্বপক্ষে তো যুক্তি থাকতে হবে। আমরা মনে করি ওদের বক্তব্যে কোনও যুক্তি নেই।’

এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে ‘সারা আসাম বাঙালি হিন্দু এসোসিয়েশন’-এর সভাপতি বাসুদেব শর্মা বলেছেন, ‘১৯ লাখের মধ্যে মাত্র ছয় লাখ মুসলিম এবং এর দ্বিগুণ হিন্দু রয়েছেন।’
ক্ষুব্ধ বাসুদেব বাবু বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ সালে আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র একমাত্র প্রতিশ্রুতি ছিল হিন্দুদের সুরক্ষা দেয়া। আমরা বারবার তাদের কথায় কান দিয়েছি এবং আজ মনে হচ্ছে আমরা এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। গতবছর এনআরসি’র খসড়া প্রকাশের পর থেকেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম হিন্দুদের বাদ দেয়ার এক বিশাল ষড়যন্ত্র চলছে।’
তিনি বলেন, ‘অসমের বরাক উপত্যকার এমপি ও বিধায়করা এনিয়ে একটি কথাও বলেননি। তাঁরা নির্বাচনের প্রচারে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ‘হিন্দুত্বের দোহাই’ দিয়ে ভোট চেয়েছিলেন। এখন হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এলেও তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সেজন্য আমরা তাঁদের পদত্যাগ দাবি করছি।’
‘গৈরিক ভারত’-এর শান্তনু নন্দন ভট্টাচার্যের দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ায় ভারতে হিন্দুদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে ‘সারা আসাম হিন্দু বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন’, ‘গৈরিক ভারত’সহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শিলচরে পার্ক রোডের ক্ষুদিরাম মূর্তির সামনে ঘণ্টাখানেক ধর্না-অবস্থানে বসেন। ওই কর্মসূচিতে উপত্যকার বেশ কিছু বিশিষ্ট নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় কয়েকশ’ মানুষ সম্মিলিতভাবে এনআরসি নিয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগে সোচ্চার হন। তাঁদের দাবি, এনআরসি তালিকা থেকে বাদপড়া ১৯ লাখের মধ্যে ১১ লাখই হিন্দু, সেজন্য এই তালিকাটি ত্রুটিপূর্ণ।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।