'এনআরসি নয়, ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ'
-
টিপু মুনশি (বামে)
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন। কিন্তু সর্বত্র না হলেও ভারতের কিছু স্থানে মুসলিমদের উপরে নির্যাতন করা হচ্ছে। গোমাংসের নামে মুসলিমদের নির্যাতন করা হচ্ছে।’ গতকাল (বুধবার) বিজেপিশাসিত অসমে গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
টিপু মুনশি বলেন, ‘ভারতে মুসলিমরা নিরাপদ নন। সর্বত্র না হলেও কিছু কিছু স্থানে মুসলিমদের উপরে নির্যাতন করা হচ্ছে। উত্তর ভারতের নানা স্থানে ওই ধরণের ঘটনা ঘটছে। গোমাংস খাওয়া নিয়ে মুসলিমদের নির্যাতন করা হয়। ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়।’
অসমে বহুলালোচিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি প্রসঙ্গে টিপু মুনশি বলেন, ‘নাগরিকপঞ্জি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যা বলেছেন, সেটাই আমরা বলব। আমরা এতে মোটেও চিন্তিত নই। ভারতের এক রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি নবায়ন হচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত হব কেন?’
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ধর্মীয় নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। প্রত্যেক বছর হাজার-হাজার দুর্গাপুজো হচ্ছে। রংপুরে এবার ১৫৬টি দুর্গাপুজো হয়েছে। আমি মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ করেছি। গভীর রাত পর্যন্ত নাড়ু খেয়ে ঘুরেছেন সবাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরাও সেটা মানি। সেজন্য সবাই উৎসবে যোগ দিই।’

অন্যদিকে, বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম মশিউর রহমান বাংলাদেশ থেকে অসমে অনুপ্রবেশের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হতে পারে বাস্তবে সেটা সত্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘অনেককাল আগে বাংলাদেশ থেকে প্রব্রজন হতো কিন্তু এখন আর হয় না। অর্থনীতিকরা বলছেন, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা উন্নত। সেজন্য কেউ ভালো অবস্থায় থাকলে, অর্থনীতি ভালো হলে এখানে কেন আসবেন?’
মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রব্রজনকে মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিবেচনা করতে হবে। একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা এবং মানুষের মতো ব্যবহার করা উচিত। বাংলাদেশি, মিজো ইত্যাদি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কে কোথা থেকে এসেছে সেটা ভুলে গিয়ে মানুষ হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’
সীমান্ত নিয়ে আরও উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নির্ধারিত হয়েছে রেডক্লিফ লাইনে। কিন্তু রেডক্লিফ লাইন পুরোনো হয়েছে। সেজন্য রেডক্লিফকে এখন বিদায় জানানো উচিত’ বলেও এ কে এম মশিউর রহমান মন্তব্য করেন।

অসমের গুয়াহাটিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দু’দিনের বাণিজ্য সহযোগিতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২২/২৩ অক্টোবর। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই সম্মেলন হয়। এতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি ও অন্যরা যোগ দেন।
সম্মেলনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বাংলাদেশে হাসিনা সরকার থাকার সুবাদে সেদেশের সঙ্গে ভারতের আরও মজবুত সম্পর্ক হয়ে চলেছে। কারণ, দু’দেশের সরকার পারস্পারিক সম্পর্কে এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী। এরফলে একের পর এক চুক্তি হয়ে চলেছে। জল পথে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার পাশাপাশি ‘বিবিআইএম মোটর ভেহিকেল’ চুক্তিও অসমসহ উত্তর পূর্ব ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই এলাকার আর্থিক চেহারাই পাল্টে যাবে।
স্বাধীনতার আগে অসমের সঙ্গে স্থল-জল-রেলপথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিলে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।