পশ্চিমবঙ্গে ৩ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল জয়ী, খুশি মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করিমপুর, খড়গপুর ও কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল জয়ী হয়েছে। নির্বাচনি ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে আজ (বৃহস্পতিবার) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এটা মানুষের জয়। তাই মানুষকেই এই জয় উৎসর্গ করছি আমরা। মানুষের রায়ই বড় রায়, তার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।’
মমতা বলেন, ‘১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর থেকে গত ২১ বছর ধরে আমরা কোনও দিন কালিয়াগঞ্জ এবং খড়গপুর আসন জিততে পারিনি। এবার মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘দলের কর্মীরা সবাই মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের পরিশ্রমেই এই জয় এসেছে।’
মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘ওদের ঔদ্ধত্য, অহংকারকে মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। যখন তখন যেকোনও রাজ্যে যা খুশি করছে! বিজেপি কখনও এনআরসি, কখনও অন্য কিছু নিয়ে যা খুশি প্রচার করছে। কিন্তু এই মানুষরাই দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়েছেন, এমপি/এমএলএ বানিয়েছেন, সমস্ত কাজ করেছেন। আর এখন ওরা (বিজেপি) বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে!’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির খারাপ হাল। মানুষ কাজ পাচ্ছেন না, উল্টে কাজ হারাচ্ছেন। যুব সমাজের কাছে কোনও দিশা নেই।’
মাত্র ৫ মাস আগে লোকসভা নির্বাচনের ফলে খড়গপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এগিয়ে ছিলেন ৪৫ হাজার ১৩২ ভোটে। অন্যদিকে, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী এগিয়ে ছিলেন ৫৬ হাজার ৭৬২ ভোটে।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জ ছিল কংগ্রেসের দখলে। অন্যদিকে, খড়গপুর সদর কেন্দ্রে জিতেছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার ওই দুটি কেন্দ্রেই তৃণমূল জয়ী হয়েছে। খড়গপুর আসন হাতছাড়া হওয়া বিজেপির পক্ষে সম্মানের প্রশ্ন। কারণ ওই আসনটি ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। তিনি গত মে-জুন মাসের লোকসভা নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছিল।
অন্যদিকে, করিমপুর আসনে জয়ের জন্য কোমর বেধেছিলেন রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। কিন্তু তিনি সেখানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ওই আসনটিতে তৃণমূল গতবারের চেয়ে তাদের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতে সমর্থ হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।