সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক টুইটের অভিযোগে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর
https://parstoday.ir/bn/news/india-i76934-সাম্প্রদায়িক_উসকানিমূলক_টুইটের_অভিযোগে_বিজেপি_প্রার্থীর_বিরুদ্ধে_এফআইআর
ভারতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক টুইটের অভিযোগে বিজেপির মডেল টাউন কেন্দ্রের প্রার্থী কপিল মিশ্র'র বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ রাতে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২০ ১৩:১৮ Asia/Dhaka
  • কপিল মিশ্র
    কপিল মিশ্র

ভারতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক টুইটের অভিযোগে বিজেপির মডেল টাউন কেন্দ্রের প্রার্থী কপিল মিশ্র'র বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ রাতে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

ভারতে গত ডিসেম্বরে বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি হওয়ার পর থেকেই ওই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ধর্না-অবস্থানে বসেছেন দিল্লির শাহীন বাগের মুসলিম নারীরা। 

এ প্রসঙ্গে গত (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে টুইট করে বিজেপি প্রার্থী কপিল মিশ্র লেখেন, ‘শাহীন বাগের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতে ঢুকে পড়েছে। ‘মিনি পাকিস্তান’ তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। পাকিস্তানের দাঙ্গাবাজরা সড়ক দখল করে বসে আছে।’

পরে অন্য আর একটি টুইটে তিনি লেখেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন দিল্লিতে ‘ভারত বনাম পাকিস্তানের লড়াই’ হতে চলেছে। এভাবে বিক্ষোভকারী নারীদের কার্যত পাকিস্তানি বলে চিহ্নিত করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালান ওই বিজেপি প্রার্থী।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন হবে। আগেই দিল্লি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোথাও কোনও উস্কানিমূলক পোস্ট বা টুইট করা হচ্ছে কিনা, সেদিকে তারা কড়া নজর  রাখছে। নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত যেকোনও পোস্টের বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দিল্লির মুখ্যনির্বাচনী কর্মকর্তা রণবীর সিং বলেন, ‘ওই টুইটটি আমাদের নজরে আসে। এবং সেটি মুছে ফেলার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। কমিশন সে ব্যাপারে টুইটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে টুইটটি মুছতে বলেছে।’ নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কপিল মিশ্রকে শোকজ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলে। কিন্তু তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। পরে কপিল তাঁর সাফাইতে বলেন, ‘আমি ভুল কিছু বলিনি। এদেশে সত্যি কথা বলা অন্যায় নয়। আমি আমার মন্তব্য থেকে সরছি না।’   

এরপরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র'র বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণা ও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর অপরাধে পুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়। রাতেই দিল্লি পুলিশ ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

ড. ইমানুল হক

এ প্রসঙ্গে আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সমাজকর্মী,  ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একটা ভালো কথা বলেছেন যে, ওঁরা (বিজেপি) এত পাকিস্তান পাকিস্তান করে কেন? পাকিস্তান কী ওঁদের বন্ধু? সত্যি কথা বলতে কী পাকিস্তানের থেকে ওঁদের বড় বন্ধু আর নেই। সেজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিনা নিমন্ত্রণে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। ওঁরা বিহারের নির্বাচনের সময় বলেছিলেন, এখানে বিরোধীরা জয়ী হলে পাকিস্তানে বোমা ফাটবে। সেজন্য তাঁদেরকে জয়ী করা দরকার। কিন্তু বিহারের নির্বাচনে ওঁরা পরাজিত হয়েছিলেন। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও যদি ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্রে (ইভিএম) ব্যাপক কারচুপি না হয় তাহলে বিজেপি এখানে গোহারা হারতে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রশ্নে, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাঙ্ক তুলে দেওয়ার মুখে নতুন কোনও একটা কলেজ গড়েনি, এঁদের আমলে নতুন কোনও কারখানা হয়নি। এবং বেকার বেড়ে গেছে, প্রবল অর্থনৈতিক মন্দা চলছে দেশে। এসময় দিল্লিবাসী ঠিক করেছেন যে ওঁদের পরাজিত করবেন। ওঁদের জনসভায় কোনও লোক হচ্ছে না। পাকিস্তানের যে ধুয়ো তুলছে ওঁরা তা আর থাকবে বলে মনে হয় না।’

ড. ইমানুল হক বলেন, ‘পাকিস্তানের খুশি করার ব্যবস্থা করছে বিজেপি দল। ওঁদের সব থেকে বন্ধু যদি কেউ থাকে তাহল কপিল মিশ্র’র দল। কপিল মিশ্র যা বলছেন, তাঁর গুরু মোদি-অমিত শাহ রাতদিন তা-ই বলে চলেছেন।’ মানুষ আগামীদিনে এর জবাব দেবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।#  

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।