সংসদে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কংগ্রেসের ৭ এমপিকে সাসপেন্ড, ক্ষুব্ধ অধীর চৌধুরী
ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কংগ্রেসের সাত এমপিকে অধিবেশনের সম্পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে লোকসভা পরিচালনা করছিলেন মীনাক্ষি লেখি। তিনিই গৌরব গগৈ, টি এন প্রথাপন, ডিন কুরিয়াকোস, মনিকা টেগোর, রাজমোহন উন্নিথন, বেনি বেহানন ও গুরজিত আউজলাকে সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
আজ লোকসভায় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বাজেট অধিবেশনের বাকি মেয়াদ পর্যন্ত উল্লেখিত কংগ্রেস সাংসদদের সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। বিরোধীদের বাধা ও আপত্তির মধ্যেই ওই প্রস্তাব ধ্বনিভোটে পাস হয়। এরপরেই মীনাক্ষী লেখি ওই এমপিদের সভাকক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে সভায় আলোচনার সময় কিছু সদস্য জোর করে স্পিকারের বেঞ্চ থেকে অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং তা ছুঁড়ে ফেলা হয়। সংসদীয় ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক আচরণ, যখন কার্যনির্বাহী সম্পর্কিত কাগজপত্র স্পিকারের বেঞ্চ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে আজ সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘সাত এমপিকে সাসপেন্ড করা সঠিক কি না তা ভারতের জনগণ বলবে। কিন্তু আমরা কোনও অবস্থাতেই ভয় পাওয়ার লোক নই। ভীত হওয়ার কংগ্রেস কর্মী নই। আমাদের ৭ এমপিকে সাসপেন্ড করে যদি ওরা ভাবে যে দিল্লি দাঙ্গার বিষয়ে আলোচনা থামিয়ে দেবো, আমরা কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করব না। আগামীদিনে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। ভারতে দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যর্থতার কথা আমরা সংসদের বাইরে ও ভিতরে বারবার বলতে থাকব।’
অধীর বাবু বলেন, ‘প্রতিশোধের ভাবনা থেকে সদস্যদের গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আসলে সরকার ভয় পাচ্ছে। এটা একনায়কতন্ত্রের সিদ্ধান্ত। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, স্পিকারের নয়। সাত সদস্যের সাসপেন্ডে আমরা ভীত নই। আমাদের লড়াই জারি থাকবে। আমাদের দাবি, দিল্লি দাঙ্গার বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। আমরা এ নিয়ে অন্য নেতাদের সাথে কথা বলছি। এটা আমাদের অধিকার। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং জনসাধারণের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আমরা উত্থাপন করব।’
তিনি বলেন, ‘আজ সংসদে যা ঘটেছে তা গণতন্ত্রের জন্য বিব্রতকর কাহিনী। বিরোধীরা সরকারের কাছে দাবি করছে যে দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা করা উচিত, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধর্মীয় ফাটল বাড়ছে। দেশের স্বার্থে সভায় আলোচনা হোক। গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার দাবি জানানো হচ্ছে।’ কংগ্রেসের দাবি, সরকারকে অবশ্য দিল্লি দাঙ্গার জন্য দায়বদ্ধ হতে হবে। এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওই বিষয়ে সংসদে বিবৃতি দিয়ে হবে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।