করোনাভাইরাস ইস্যুতে আগুন নিয়ে খেলবেন না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
https://parstoday.ir/bn/news/india-i78456-করোনাভাইরাস_ইস্যুতে_আগুন_নিয়ে_খেলবেন_না_মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায়
করোনাভাইরাস ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আজ (শনিবার) বেসরকারি এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোক জমায়েত প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই মন্তব্য করেন।   
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ২১, ২০২০ ১১:২২ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

করোনাভাইরাস ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আজ (শনিবার) বেসরকারি এক টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোক জমায়েত প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই মন্তব্য করেন।   

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমি দেখতে পাচ্ছি কিছু সংগঠন হাজার হাজার লোককে জমায়েত করে ভাষণ দিচ্ছেন। আমি তাদের অনুরোধ করব প্লিজ আগুন নিয়ে খেলবেন না। সবাইকে ভালো থাকতে দিন। মনে রাখবেন বাঁচলে ধর্ম হবে। আমরা সবাই সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি কোলকাতার কালীঘাট মন্দির কর্তৃপক্ষসহ অন্য কয়েকটি ধর্মীয় সংস্থার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   

তিনি বলেন, ‘আমি গুরুদোয়ারা, গির্জা, মসজিদ কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে বলব, আমি তো শাটডাউন করতে বলিনি। অনেকে তো শাটডাউন করে দিয়েছে। অল্প, অল্প, দুই/চার জন করুক। একসাথে দশ হাজার লোকের, এক হাজার লোকের, পাঁচশ' লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ আছে। এটা আইন করা হয়েছে। আইনটা ভারত সরকার করেছে। এই আইনটা সব রাজ্য কার্যকর করেছে কারণ রোগ কখনও ভালোবাসে না। আমরা মানবিকভাবে করতে চাই সেজন্য কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ 

কোলকাতায় বেড়ে গেছে মাস্কের ব্যবহার

এদিকে, মহারাষ্ট্রসহ যেসব রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকরা কাজ করতে গিয়েছিল তাদেরকে সেসব রাজ্য থেকে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে ফেরত পাঠানোয় মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ  করেছেন। বিশেষকরে ষ্টেশনগুলোতে করোনা মোকাবিলায় কোনও পরিকাঠামো না থাকায়, কোনও পর্যবেক্ষণ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, পুণে ও অন্যত্র থেকে এরইমধ্যে প্রায় দশ হাজার বাঙালি শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। অন্য রাজ্যের শ্রমিকরাও ঘরে ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব ট্রেন বন্ধ রাখার জন্য বারবার বলা সত্ত্বেও ওঁরা কোনও কথা শুনছে না। আজকে আবার বলেছি। যদি না শোনে তাহলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এসব ট্রেন আটকে দেবো।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এরইমধ্যে তো চলে এসেছে সবাই। তারাও তো আমাদের ভাইবোন। কী করব? তাদের পরিবার পরিজন কেউ মুর্শিদাবাদে থাকে, মালদহে থাকে, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় থাকে। তারাও তো আমাদের পরিজন। এদের উদ্দশ্যে আমার একটা কথাই বলার আছে সেটা হল রোগ হলে আপনাদের যে রাজ্য তাড়িয়ে দেয় তাহলে সারাবছর কেন সেখানে যাবেন? আপনি ওখানে যে কাজটা করছেন, সেই কাজটা বাংলায় এখন হচ্ছে। জরি, সোনার কাজ এখানেও হচ্ছে। পাঁচ লাখ লোক এখানে কাজ করে। এখানে কাজের কোনও অভাব নেই। আমাদের ভাইবোনদের মেধা খুব বেশি। কিন্তু সেই মেধা নিয়ে যাচ্ছে অন্য লোক। অন্য সময় যখন ভালো থাকবেন তখন তারা (ভিন রাজ্য) আপনাদের ব্যবহার করবে। আর যখন রোগ হবে তখন আপনাদের তাড়িয়ে দেবে! এটা ভাবুন। ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’

অন্যরাজ্য থেকে বাঙালি শ্রমিকদের বিতাড়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি আগেও দেখেছি যখন বম্ব ব্লাস্ট হয়েছিল তখনও এদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি থেকেও বিতাড়িত হয়েছিল। আমি অনেকগুলো কেস জানি। আমি আপনাদের বলব আপনারা এখানেই (রাজ্যে) সুখে, শান্তিতে ঘর করুন।’

মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে বাংলাদেশে দৈনিক ২৬ হাজার ট্রাক যাতায়াত করে থাকে। ২৬ হাজার ট্রাককে কী আমার পক্ষে আটকানো সম্ভব? অনেক ট্রাকে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র আসে। পরশুদিন খবর পেলাম দেড়হাজার ট্রাক বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে আটকে আছে। বাংলাদেশ বলেছে আমি একশ' নেব। একশ' যদি নেয়, তাহলে ওখানে এক হাজার চারশ' ট্রাক কেন বেশি এসেছে? সেই সব ট্রাকের জিনিষপত্র তো পচে যাবে! পচা মালপত্র ওখানে ফেলে দেবে। সেখানে আরেকটা রোগের প্রাদুর্ভাব হবে। আমার বুকের ওপর দিয়ে আমি কেন সবকিছু টলারেট করব? আমি মানবিকভাবে কাজ করতে চাই সেজন্য আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করব যার নিশ্চয়তা আছে যে এই মাল নিয়ে সে ওখানে পৌঁছাতে পারবে, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে অনুমোদন করার দরকার নেই। এন্ট্রি পয়েন্টে আটকে দেবে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ওরা অন্য সময় একটা স্পেশাল ট্রেন চাইলে দেয় না। কিন্তু সমস্ত রাজ্য খালি করে সব বাংলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলার শ্রমিকরা যারা অন্য রাজ্যে আছেন তারা নিশ্চয় এখানে আসতে পারেন। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তো তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করে না! এটা নিয়ে আমি একনাগাড়ে এক মাস ধরে চিৎকার করে যাচ্ছি। কিন্তু প্রতিকার শূন্য! না আছে চিকিৎসার ব্যবস্থা, না আছে কোনও সরঞ্জাম, না আছে কোনও ওষুধপত্র। কিন্তু তার মধ্যে আমরা আমাদের ডাক্তার, চিকিৎসক, মানুষজন নিয়ে লড়ে যাচ্ছি যেটুকু  আমাদের সমর্থ আছে।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় যে তিনটে করোনা কেস ধরা পড়েছে তা তিনটেই ‘ইউকে’র কেস একটাও বাংলার নয়। এয়ারপোর্টে এসব ধরা পড়েছে। এজন্য এয়ারপোর্ট থেকেই তাদের আমরা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ এসময় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কিছুদিনের জন্য দূরপাল্লার ট্রেন স্থগিত রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেন।#                 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।