মহামারী কোনও ধর্ম-সম্প্রদায় দেখে হয় না: মমতা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i78923-মহামারী_কোনও_ধর্ম_সম্প্রদায়_দেখে_হয়_না_মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মহামারী কোনও ধর্ম দেখে হয় না। তিনি আজ (বুধবার) বিকেলে করোনাভাইরাস ইস্যুতে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
এপ্রিল ০৮, ২০২০ ১৪:২২ Asia/Dhaka
  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মহামারী কোনও ধর্ম দেখে হয় না। তিনি আজ (বুধবার) বিকেলে করোনাভাইরাস ইস্যুতে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন।

মমতা দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের কর্মসূচি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রক রাজ্যের হাতে থাকে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও রাজ্যের হাতে থাকে না। এই দুটোই কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। নিজামুদ্দিনে অনেক মানুষ জমায়েত হয়েছিল। সেটা অ্যালাও করেছিল বলে হয়েছিল। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে না যেয়ে এটুকু বলতে চাই যে, আমাদের কাছে যখন খবর এসেছিল যে এখান থেকেও অনেকে গেছে,  তারপরে আমাদের প্রশাসন খুব ভালোভাবে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেউ কেউ এটা নিয়ে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করছেন, কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক কথাও বলছেন। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যদি কোনও রোগ মহামারী হয়, সেই মহামারীটা কিন্তু কোনও কাস্ট দেখে, ধর্ম দেখে, সম্প্রদায় থেকে নয়, সবার ঘরেই ঢুকে যায়। বন্যার জল যেমন কোন বাড়িতে ঢুকবে, আর কোন বাড়িতে ঢুকবে না তা ভাবার অবকাশ দেয় না। আগুন লাগলে পাশাপাশি আগুন সবার বাড়িতেই লাগে এটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। সেরকম মহামারীও যখন হয়, মহামারীতে কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে শিখ, কে খ্রিস্টান, কে ভাই, কে বোন, কে ছোট, কে বড়, কে সাদা, কে কালো তা দেখে হয় না। করোনা গোটা পৃথিবীতে আজ ছড়িয়েছে। অনেক রাষ্ট্রে প্রচুর মানুষ মারাও গিয়েছে।’   

মমতা বলেন, ‘ভারত সরকার ২৪ মার্চ এখানে লকডাউন ঘোষণা করেছে। তাঁর আগে ১৩ মার্চ নিজামুদ্দিনে প্রোগ্রাম হয়েছে। তাঁর আগে দিল্লিতে বড় দাঙ্গাও হয়েছিল। অনেক ঘটনাই ঘটেছে। সেসময় মধ্য প্রদেশে একটা বিপর্যয়ও চলছিল। সেজন্য আমাদের কাছে বিস্তারিত খবর না আসলে আমরা জানতে পারি না। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কোন আন্তর্জাতিক যাত্রী নামল সে সম্পর্কে রাজ্য পুলিশকে তথ্য না দিলে আমরা জানতে পারি না। তেমনি মনে রাখতে হবে বিদেশি যারা এখানে এসেছেন তাঁরাও নিশ্চয়ই তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসা, অভিবাসন ছাড়পত্র ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে এসেছেন। এটা ভারত সরকারের অধীনে আমাদের অধীনে নয়। তা সত্ত্বেও আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। রোগ কখনও হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান দেখে হয় না। আমাদের কাছে তথ্য আসার সাথে সাথেই মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে আজ থেকে ১০/১২ দিন আগে আমরা ১০৮ জন বিদেশিকে যারা ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন, তাঁদের কেউ মালয়েশিয়া থেকে কেউ ইন্দোনেশিয়া থেকে কেউ থাইল্যান্ড থেকে, কেউ মিয়ানমার থেকে এসেছিলেন। তাঁদেরকে আমরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে রেখেছি। স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষণে তাঁরা আছেন। বাংলা থেকেও যারা গিয়েছিলেন, (নিজামুদ্দিনে) তাঁদের মধ্য থেকে ৬৯ জন ওদের সঙ্গে আছে। সব মিলিয়ে ২০০ জনের বেশি বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যারা এ নিয়ে নানা কথা বলছেন তাঁদের বলব প্রকৃত ঘটনা না জেনে বলা উচিত নয়।’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন করোনা ইস্যুতে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি লকডাউন পরিস্থিতি মেনে চলার পরামর্শ দেন।#    

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।