পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে কেন্দ্র: রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/india-i79229-পশ্চিমবঙ্গে_লকডাউন_পরিস্থিতি_খতিয়ে_দেখবে_কেন্দ্র_রাজনৈতিক_মহলে_মিশ্র_প্রতিক্রিয়া
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আগেই ওই সফরের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের ওই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।  
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২০, ২০২০ ১৪:৩৫ Asia/Dhaka
  • কোলকাতা লকডাউন
    কোলকাতা লকডাউন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আগেই ওই সফরের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের ওই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।  

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ (সোমবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সমস্ত গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানাচ্ছি, বিশেষ করে কোভিড-১৯ সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যা বলছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কিসের ভিত্তিতে, ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনবলে পশ্চিমবঙ্গের এবং সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় দল পাঠাচ্ছে, সেটা স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র কাছে আমার আর্জি, কীসের ভিত্তিতে এটা করা হচ্ছে, তা আমাদের জানানো হোক। যুক্তিসঙ্গত কারণ না দেখালে, আমরা এ নিয়ে এগোতে পারব না। কারণ বিষয়টি ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো’র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কেন্দ্রীয় ওই প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন বলে জানা গেছে। মূলত, দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজ্যের লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল। কোলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে যাবে ওই পর্যবেক্ষক দল।

এ সম্পর্কে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে আরও বেশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে যে কাজ করছে তাকে মদদ দেওয়া উচিত। তা না করে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে এ ধরণের আচরণে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করবে। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যদি কোনও কেন্দ্রীয় দল আসে তাহলে তা কাম্য নয়। এটা রাজ্যের ওপরে অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। সবাই মিলে কাজ করার যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সেটাকেই তো ওঁরা ভেঙে দিচ্ছে। আমার মনে হয় না যে এটা খুব ভালো উদ্যোগ এবং ভালো লক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এ জিনিস অচল।’

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা অবশ্য বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার লকডাউন কার্যকর রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লকডাউন ও রাজ্যের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে এরআগে রাজ্যকে বেশ কয়েকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও রাজ্যে এত চিঠি যায়নি। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্য সরকার ব্যর্থ।’

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা

রাজ্যের বাম পরিষদীয় দলনেতা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি যখন সবাই মিলে মোকাবিলা করা উচিত। দেশ শুদ্ধ মানুষ বিপদে। কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব আছে। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভুলে দিল্লির সরকারকে চলতে হবে। লকডাউন  কার্যকর করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। এজন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম দায়ী।’

তিনি এব্যাপারে রেশনে দীর্ঘ লাইন ও ব্যাঙ্কে যৎসামান্য টাকার জন্য দীর্ঘ লাইনের মধ্য দিয়ে লকডাউন ভাঙা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।#   

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।