পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত চরমে, সোচ্চার তৃণমূল নেতারা
-
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা ও অন্যান্য ইস্যুতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছে। উভয়েই একাধিকবার পাল্টাপাল্টি চিঠি লেখায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাজ্যপাল আজ (শুক্রবার) মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে, পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এবং প্রতিরোধে আপনার যে বিশ্রী ব্যর্থতা, সেদিক থেকে জনগণের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আপনার গোটা কৌশলটা রচিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনার সংখ্যালঘু তোষণ এতই প্রকাশ্য এবং বেমানান যে, এক সাংবাদিক যখন আপনাকে নিজামুদ্দিন মারকাজের ঘটনা নিয়ে একটা প্রশ্ন করলেন, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া ছিল, আমাকে সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন করবেন না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আপনার বোঝা উচিত যে, এক জন অপরাধীকে কখনও একজন আক্রান্তের অবস্থানে রাখা যায় না।’
এরআগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, 'আমি ভারতের গর্বিত এক রাজ্যের ‘নির্বাচিত’ মুখ্যমন্ত্রী। আপনি হয়তো এটা ভুলে গিয়েছেন যে আপনি একজন ‘মনোনীত’ রাজ্যপাল। আপনি আমার সরকার বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরামর্শ বা ইনপুট নাও গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ১৯৪৯ সালের ৩১ মে সংবিধান সভায় দাঁড়িয়ে বাবাসাহেব আম্বেদকর যে কথা বলেছিলেন, তা আপনার উপেক্ষা করা উচিত নয়।'
এভাবে উভয়ের মধ্যে বহু বিষয়ে পাল্টাপাল্টি পত্রযুদ্ধের মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাজ্যপাল মহোদয় যে চিঠিগুলো মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, যে ভাষায়, যে টোনে লিখেছেন তা আমি আমার সংসদীয় জীবনে কোনোদিন শুনিনি। আমার কর্পোরেট জীবনেও শুনিনি যে কেউ এরকম ভাষায় প্রতিষ্ঠিত লোক আরেকজন প্রতিষ্ঠিত লোককে বলছেন। এটা তাঁর মানসিক গঠনের পরিচয় দেয়।’
তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এমপি বলেছেন, ‘সবাই এখন করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত। রাজভবনের অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য এত সময় কারোও নেই। মোদী-শাহ একটা উপকার করুন। এই ভদ্রলোককে (রাজ্যপাল) দিল্লি নিয়ে যান ও লকডাউনে রাখুন।’
সিপিএম নেতা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘২ পাতার বদলে ৫ পাতার চিঠি, তার বদলে আবার ৫ পাতার চিঠি। এবার এখন ১৪ পাতার চিঠি। এটা কোনও কাজের কথা নয়। করোনা মহামারীতে মানুষ এখন অসহায়, নাজেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সেগুলো নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। কথা নেই।’
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহা রাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।