অসমে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত ২০, প্রেসিডেন্ট ও মুখ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i80372-অসমে_ভয়াবহ_ভূমিধসে_মৃত_২০_প্রেসিডেন্ট_ও_মুখ্যমন্ত্রীর_শোক_প্রকাশ
ভারতের অসমের বিভিন্ন জেলায় ভূমিধসে চাপা পড়ে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। গুরুতর আহত ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ০২, ২০২০ ১২:৪০ Asia/Dhaka

ভারতের অসমের বিভিন্ন জেলায় ভূমিধসে চাপা পড়ে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। গুরুতর আহত ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) ওই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষিণ অসমের বরাক উপত্যকা অঞ্চলের কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ ওই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ ও নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে সমবেদনা জানিয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ভূমিধসজনিত ক্ষয়ক্ষতিতে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ

মৃতদের মধ্যে কাছাড় জেলার ৭ জন, হাইলাকান্দির ৭ জন এবং ৬ জন করিমগঞ্জ জেলার। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হয়েছে। অসমের বিভিন্ন এলাকায় গত দু’দিন ধরে বৃষ্টির জেরে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাইলাকান্দি জেলার ভটরবাজার এলাকার একটি ঘরের ওপরে টিলার চাঙড় ভেঙে পড়লে দুটি পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে একই পরিবারের পাঁচ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, কুটন মিঞা লস্কর (৪০) জুলফা বেগম (৩৫), নাজিরা বেগম (৪) হাজিরা বেগম (৬), ফুতুলি বেগম (৩) এবং মতিউর রহমান লস্কর (৬০)। অন্য ঘটনা ঘটে মোহনপুরে। সেখানে চাঁদমণি মাল নামে (৫) এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়।

আজ (মঙ্গলবার) ভোরে করিমগঞ্জ জেলার কালীগঞ্জ এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ওই অঞ্চলটি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত। এখানে ৬ জন পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষের নীচেয় চাপা পড়ে মারা যায়। মৃত ছ’জনের মধ্যে পাঁচজন একই পরিবারের সদস্য। ঘটনার সময় তারা তাদের বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন। এসময় বাড়ির সকলেই ধ্বংসস্তূপ চাপা পড়ে মর্মান্তিকভাবে জীবন্ত দাফন হয়ে যায়।

গত কয়েকদিনধরে একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হয়েছে অসমসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক জেলা। বন্যা ও হড়পা বানে অসমে কমপক্ষে ৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই ঘটনায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙেছে। এখনও পানিবন্দি রয়েছেন বহু মানুষ। চাষের জমি, গবাদি পশু ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোয়ালপাড়া, হুজাই এবং নওগাঁও জেলায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

মাওলানা আতাউর রহমান মাঝারভুঁইয়া

এদিকে, অসমে ভূমিধসের কারণে নিহত ও আহতদের সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অসমের সাবেক বিধায়ক মাওলানা আতাউর রহমান মাঝারভুঁইয়া।

আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে দেওয়া  সাক্ষাৎকারে মাওলানা আতাউর রহমান মাঝারভুঁইয়া বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৬ থেকে ৮ ঘটিকার মধ্যে করিমগঞ্জ জেলার অত্যধিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রহিমপুর ও করিমপুর গ্রামে একই পরিবারের পাঁচ জন লোক পাহাড় ধসের ফলে মারা গেছে। অন্য পরিবারের একজন নিহত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ অসমের হাইলাকান্দি জেলার ভটেরবাজার এলাকায় ৭ জন নিহত হয়েছে। কাছাড় জেলায় একই পরিবারের ৭ জন নিহত হয়েছে। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে নিহতদের পরিবারের জনপ্রতি ২৫ লাখ টাকা আহতদের এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।