বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও রাজ্যসভায় কৃষি বিল পাশ, সরকার ও বিরোধীপক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i83224-বিরোধীদের_আপত্তি_সত্ত্বেও_রাজ্যসভায়_কৃষি_বিল_পাশ_সরকার_ও_বিরোধীপক্ষের_পাল্টাপাল্টি_দাবি
ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও গোলযোগের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত দু’টি বিল পাশ হয়েছে। আজ (রোববার) কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার সংসদে ধ্বনি ভোটে বিল দু’টি পাশ করাতে সমর্থ হয়েছে।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ ১৫:১৮ Asia/Dhaka
  • বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও রাজ্যসভায় কৃষি বিল পাশ, সরকার ও বিরোধীপক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও গোলযোগের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত দু’টি বিল পাশ হয়েছে। আজ (রোববার) কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার সংসদে ধ্বনি ভোটে বিল দু’টি পাশ করাতে সমর্থ হয়েছে।

বিরোধীরা ওই বিলের প্রতিবাদে ‘একনায়কতন্ত্র বন্ধ করো’ স্লোগান দেন এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা এসময় ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাইক কেড়ে নেওয়ার  চেষ্টা করেন। তাঁদের দাবি, বিলটি পর্যালোচনা করার জন্য সিলেক্ট  কমিটিতে পাঠানো হোক। ব্যাপক হট্টগোলের জেরে সংসদের কাজ কিছুক্ষণের  জন্য স্থগিত করে দিতে হয়।

আজ   তৃণমূল এমপি ডেরেক ও’ ব্রায়েন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের আসনের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং রুল বুক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, সংসদের কার্যক্রম নিয়ম বিরুদ্ধ ভাবে হয়েছে। এবং এভাবে বিল পাশের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।

ডেরেক ও ব্রায়েনের অভিযোগ, ‘বিরোধীরা কৃষি বিল নিয়ে ভোটাভুটি চাইলেও   সরকার সেই দাবি মানেনি। সরকার জানত ভোটাভুটি হলে এই বিল পাশ হতো না৷ কারণ রাজ্যসভায় তেরো থেকে চোদ্দটি বিরোধী দল এই বিলগুলির বিরুদ্ধে ছিল৷'

ডেরেকের অভিযোগ, রাজ্যসভায় কী ঘটছে তা চেপে রাখার জন্য রাজ্যসভা টিভিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ সম্প্রচারিত হয়নি৷ সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত দুঃখের  দিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, বিতর্কিত ওই কৃষি বিল পাশ হওয়ার পরে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারতের কৃষি ইতিহাসে আজ একটি বড় দিন।  আমি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের জন্য আমার পরিশ্রমী অন্নদাতাদের অভিনন্দন  জানাই। এটি কেবল কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে না, এটি কোটি কোটি কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে।’

বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদিজীর   নেতৃত্বে ভারতীয় কৃষকেরা ৭০ বছরের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেলেন।’

অত্যাবশ্যক পণ্য আইন’ সংশোধন, ‘কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ সংক্রান্ত তিনটি বিল ইতোমধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়েছে।

আজ  রাজ্যসভায় পাশ হল, ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং  ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ সংক্রান্ত বিল। প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অভিযোগ, ওই বিল আসলে ‘কৃষকদের মৃত্যু পরোয়ানা’।  ডিএমকে নেতা টি কে এস ইলানগোভান এমপি বলেন, ‘ওই কৃষি বিল ফের চাষিদের ক্রীতদাসে পরিণত করবে।’

বিজেপির সবচেয়ে পুরনো সহযোগী শিরোমণি অকালি দলের সাংসদ নরেশ গুজরাল ‘পঞ্জাবের কৃষকদের দুর্বল ভাবার ভুল  করবেন না। তারা এই কৃষক-বিরোধী বিল মেনে নেবেন না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দলটির এক মন্ত্রী আগেই ওই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে ওই বিলের বিরুদ্ধে কৃষকরা পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।