ডাবল ইঞ্জিনের এনডিএ সরকার বিহারের উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মোদি
-
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ডাবল ইঞ্জিনের এনডিএ সরকার বিহারের উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিহারে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি আজ (রোববার) রাজ্যটিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন। বিহারে বর্তমানে জেডিইউ-বিজেপি এনডিএ জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রায়শই ওই সরকারকে সমালোচনা ও কটাক্ষ করে ‘ডাবল ইঞ্জিনের সরকার’ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
বিহারে আরজেডি-কংগ্রেস ও অন্য দলের মহাজোট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের নাম না করে তাঁদেরকে ‘ডাবল যুবরাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিহারে ‘ডাবল যুবরাজ’ও আছে। তাঁদের মধ্যে একজন তো জঙ্গলরাজের যুবরাজ। এনডিএ সরকার বিহারের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু এই ডাবল-ডাবল যুবরাজ তাঁদের সিংহাসন বাঁচানোর জন্য লড়াই করছে!’
বিরোধীদের সমালোচনা করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন হয়েছিল, ওঁরা মিথ্যাচার করে বলেছিলেন, অনেক ভারতীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল হবে। কিন্তু এক বছর হয়ে গেছে কোনও ভারতীয় নাগরিকের কী নাগরিকত্ব চলে গেছে? ওঁরা মিথ্যা কথা বলে, লোকেদের ভয় দেখিয়ে সবসময়ে স্বার্থসিদ্ধি করে থাকে।’
জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে বিরোধী নেতাদের নাম না করে প্রধানমন্ত্রী আজ বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ পুলওয়ামা হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এরফলে সেই লোকগুলোরকেও মুখোশ খুলে গেছে, যারা পুলওয়ামা হামলার পরে গুজব ছড়িয়েছিলেন। ওঁরা দেশের দুঃখে দুঃখিত হয়নি। ওঁরা বিহারের ছেলেদের আত্মত্যাগে দুঃখ পাননি। এসব লোকেরা এমনকিছু বলেছিলেন, যা আমাদের সেনাদের মনোবলকে ভেঙে দেয়!’
গত (বৃহস্পতিবার) পাকিস্তানের মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধরি সংসদে পুলওয়ামা হামলাকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ঘরে ঢুকে ভারতের উপরে আঘাত হেনেছি আমরা। ইমরান খানের নেতৃত্বেই পুলওয়ামার সাফল্য এসেছে।’
পাক মন্ত্রীর এ ধরণের মন্তব্যের পরেই ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গোটা দেশের সামনে কংগ্রেসকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি’র সিনিয়র নেতা প্রকাশ জাভড়েকর কংগ্রেসকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক অনুষ্ঠানে ওই ইস্যুতে বলেন, ‘সন্তানহারা হয়ে গোটা দেশ শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ সেই শোকে শামিল ছিলেন না। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির রাস্তাই খুঁজছিলেন তাঁরা।’
বিজেপি শিবিরের পাল্টা জবাবে গতকাল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা শশী থারুর বলেন, তিনি বলেন, ‘ঠিক কীসের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে কংগ্রেসকে, বোধগম্য হচ্ছে না। সরকার জওয়ানদের নিরাপত্তা দেবে, সেই প্রত্যাশা রেখে? একটা জাতীয় বিপর্যয়ের রাজনীতিকরণ না করে, জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানোর জন্য? না কি শহীদ জওয়ানদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য?’
এভাবে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও শোরগোলের মধ্যে অবশেষে পাকিস্তানের মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধরি তার মন্তব্য প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে বলেছেন, ‘আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি বলেছিলাম, পুলওয়ামার পরে আমাদের বিমান ভারতীয় সেনা ছাউনিকে টার্গেট করতে সফল হয়। নিরীহ মানুষদের মেরে সাহসিকতা প্রদর্শনে কোনও আগ্রহ নেই আমাদের। সন্ত্রাসী কাজকর্মের তীব্র বিরোধী আমরা।’ পাক মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীর এ ধরণের মন্তব্যের পরেও অবশ্য থেমে নেই ভারতের জাতীয় নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/এআর/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।