বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয়-তৃতীয় পর্বে ৩২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুসলিম প্রার্থীরা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i84356-বিহার_বিধানসভা_নির্বাচনের_দ্বিতীয়_তৃতীয়_পর্বে_৩২_আসনে_প্রতিদ্বন্দ্বিতায়_মুসলিম_প্রার্থীরা
ভারতের বিহারে আজ বিধানসভার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিহারে আজ ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) তৃতীয় দফার নির্বাচন হবে। প্রথম দফার নির্বাচন হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৩, ২০২০ ০৯:১২ Asia/Dhaka
  • বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয়-তৃতীয় পর্বে ৩২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুসলিম প্রার্থীরা

ভারতের বিহারে আজ বিধানসভার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিহারে আজ ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) তৃতীয় দফার নির্বাচন হবে। প্রথম দফার নির্বাচন হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর।  

আজ ১৭ টি জেলায় ৯৪ আসনের জন্য ১ হাজার ৬৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল ৭ টা থেকে ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্রের সাহায্যে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে তিন ডজন বিধানসভা আসন রয়েছে, যা মুসলিম অধ্যুষিত বলে বিবেচিত হয়। এরমধ্যে ৩২ টি আসন রয়েছে, যেখানে মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। পাঁচটি আসন এমন রয়েছে,  যেখানে ‘এনডিএ’ এবং ‘মহাজোট’ উভয়পক্ষের মুসলিম প্রার্থীরা মুখোমুখি হয়েছে।

বিহারে ১৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন, যারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হন। প্রথম দফার নির্বাচনে মুসলিম অধ্যুষিত কোনও বিশেষ আসন ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে যে ১৭ জেলার ৯৪ টি আসন নির্বাচন হতে চলেছে তার মধ্যে ভাগলপুর, দ্বারভাঙ্গা, মধুবনী, সমস্তীপুর, সিওয়ান, গোপালগঞ্জ এবং বেগুসরাই জেলা মুসলিম ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই জেলাগুলোতে দু' ডজন বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মুসলিম ভোটের সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া তৃতীয় দফার নির্বাচনে সীমাঞ্চল এলাকায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মুসলিম ভোটাররা প্রার্থীদের জয়ে সিদ্ধান্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবেন। এখানে কিছু আসনে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মুসলিম ভোটার রয়েছেন।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ৩২ টি বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। মহাজোটের বেশিরভাগ মুসলিম প্রার্থীকে বিজেপি প্রার্থীদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যাচ্ছে। কান্টি,  আমৌর,  অররিয়া, ঠাকুরগঞ্জ ও কোচাধামন আসনে এনডিএ ও মহাজোটের মুসলিম প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেজন্য, এসব কেন্দ্রে প্রতিযোগিতা খুব আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

এবার কান্টি বিধানসভা আসনে জেডিইউ’র মুহাম্মাদ জামাল এবং আরজেডি’র মুহাম্মাদ ইসরাইল মনসুরী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ২০১৫ সালে ওই কেন্দ্রে নির্দলীয় প্রার্থী অশোক কুমার চৌধুরী জয়ী হয়েছিলেন। পূর্ণিয়া জেলার অমৌর বিধানসভা আসনের জন্য মোট ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু এখানে তিন মুসলিম প্রার্থীর মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এরমধ্যে কংগ্রেস থেকে আবদুল জলিল মাস্তান, জেডিইউ থেকে সাবা জাফর এবং মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম)-এর আখতারুল ইমান মাঠে রয়েছেন। ২০১৫ সালে, কংগ্রেসের জলিল মাস্তান বিজেপি থেকে এই আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন।

অররিয়া বিধানসভা আসনে ১২ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। কিন্তু মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি জেডিউ এবং কংগ্রেসের মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে হচ্ছে। জেডিইউ থেকে শাগুফতা আজিম, কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক আবিদুর রহমান এবং মিমের রশিদ আনোয়ার লড়াইতে রয়েছেন।

একইভাবে ঠাকুরগঞ্জ আসনে মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। জেডিইউর বর্তমান বিধায়ক নওশাদ আলম, আরজেডি থেকে সৌদ আলম এবং ‘মিম’ থেকে মেহবুব আলম তাদের ভাগ্য নিরূপণে মাঠে নেমেছেন।

কোচধামান কেন্দ্রকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এখান থেকে ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। জেডিইউর মুজাহিদ আলম, আরজেডি থেকে শহীদ আলম এবং মিমের মুহাম্মাদ ইজহার প্রার্থী হচ্ছেন। ২০১৫ সালে, জেডিউ’র মুজাহিদ আলম বিধায়ক হয়েছিলেন এবং মিমের আখতারুল ইমান ৩৭ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। কিন্তু এবার দলটি মুহাম্মাদ ইজহারকে মাঠে নামিয়েছে। অন্যদিকে, আরজেডি শহীদ আলমকে প্রার্থী করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

বিহারের রাজনৈতিক লড়াইয়ে, মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন এনডিএ এবং  মহাজোটের ২০ মুসলিম প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, জেডিইউ-কংগ্রেস-সিপিএম সমন্বিত ‘মহাজোট’-এর বেশিরভাগ মুসলিম প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থীরা তাল ঠুকছেন। বিহারে ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর এবং ৭ নভেম্বর মোট তিন দফায় নির্বাচন হচ্ছে। ফল ঘোষণা হবে ১০ নভেম্বর।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।