গেইল-কোহলি-ভিলিয়ার্সের দাপটে হেরে গেল কোলকাতা
-
ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।
কোলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে কেকেআর। জবাবে ১৮৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গেইল, কোহলি ও ভিলিয়ার্সের ঝড়ো ইনিংসে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।
ক্যারিবিয় দানবীয় ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল বিশ্বকাপ ও আইপিএলসহ সর্বশেষ আট ম্যাচে গড়ে রান করেছিলেন মাত্র ৪। কিন্তু আইপিএলের ৪৮তম ম্যাচে নিজেকে ফিরে পান তিনি। তবে মাত্র এক রানের জন্য তিনি অর্ধশতক পূরণ করতে পারেননি। ৩১ বল খেলে ৫টি চার ও ৪টি ছয় হাঁকিয়ে ৪৯ রান করে তিনি স্বদেশী স্পিনার নারাইনের ঘূর্ণিতে ধরাশায়ী হন। এরপর ডি ভিলিয়ার্স নেমে কোহলির সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের পথে। দুই ব্যাটসম্যান মিলে ১১৫ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন।
অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৩৭ তম বলে অর্ধশতক পূরণ করেন। মোট ৫১ বল খেলে ৫টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তিনে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স মাত্র ২৯ বলে পূরণ করেন হাফ সেঞ্চুরি। মাত্র ৩১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৫৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনিও অপরাজিত থাকেন। নাইটদের হয়ে একমাত্র উইকেটটি পান নারিন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই রবিন উথাপ্পার উইকেটটি হারিয়ে বসে কলকাতা। ব্যাঙ্গালুরুর বোলার ইকবাল আব্দুল্লাহর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে উথাপ্পা মাত্র ২ রান করেন। উথাপ্পার পর ক্রিজে অধিনায়ক গম্ভীরের সাথে যোগ দেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান মনিশ পান্ডে। গম্ভীর এবং পান্ডে ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে তুলে আনেন।
দলীয় ৯০ রানে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে গম্ভীর ৩৪ বলে ৫১ রান করেন। এরপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান পান্ডের সাথে যোগ দেন হার্ডহিটার ইউসুফ পাঠান। পান্ডে এবং ইউসুফের জুটি থেকে আসে ২৩ রান। ১৩ তম ওভারের চতুর্থ বলে শ্রীনাথ অরবিন্দের বলে ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মনিশ পান্ডে। তিনি ৩৫ বলে ৫০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন।
এরপর মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ইউসুফ পাঠানকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠান যুবেন্দ্র চাহাল। পাঠানের পর কোলকাতার ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল এবং বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রাসেল এবং সাকিবের ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ১৮৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় কলকাতা। রাসেল ১৯ বলে ৩৯ এবং সাকিব ১১ বলে ১৮ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
ব্যাঙ্গালুরুর পক্ষে শ্রীনাথ অরবিন্দ ২টি, ইকবাল আব্দুল্লাহ এবং যুবেন্দ্র চাহাল ১ টি করে উইকেট শিকার করেন।
৫১ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এছাড়া, তিনি এক আইপিএলে ক্রিস গেইলের করা ৭৩৩ রানের করা রেকর্ডও টপকে যান।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭