ইরান-সৌদি আলোচনা ষষ্ঠ দফায় গড়ালো: সম্পর্ক উন্নয়ন চেষ্টার তীব্র বিরোধী ইসরাইল
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনার পর ষষ্ঠ দফা সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। ইরাকের মধ্যস্থতায় তেহরান-রিয়াদ আলোচনা শুরু হলেও এবারের পঞ্চম দফা আলোচনায় গঠনমূলক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে ওমান।
এর আগে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার পরমাণু আলোচনা এবং ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ওমান। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনায় ওমানের মধ্যস্থতার কারণে পরবর্তী সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হয়। পঞ্চম দফা আলোচনায় নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিষয়াদিতে আলোচনায় প্রবেশ করেছে উভয় পক্ষ। এ কারণে বলা হচ্ছে পরবর্তী ষষ্ঠ দফা আলোচনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আলোচনায় গত পর্বের আলোচনার ফলাফল ও অগ্রগতি নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরো আলোচনা হবে।
ইরান বহুবার সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপে বসতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তবে এও বলেছে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়টি নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ রিয়াদের ওপর। কিন্তু সৌদি আরব কঠোর মনোভাব নিয়ে আছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা হয় দম্ভ নিয়ে অবস্থান করছে অথবা নিজেদের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে বলতে চায় না যাতে বৈঠকে দরকষাকষি করতে পারে। এ ছাড়া সৌদি শাসকবর্গ ইরানের কাছে নত হলে ইসরাইল অসন্তুষ্ট হতে পারে বলেও রিয়াদ শঙ্কিত।
প্রকৃতপক্ষে, ইসরাইল এ অঞ্চলের আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ইরানের সাথে এ দেশগুলোর সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়। এরই অংশ হিসেবে ইসরাইল এ অঞ্চলে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে ইসরাইল সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হয়েছে এবং অচিরেই সৌদি আরবের সাথেও সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছে। এ কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সুসম্পর্ককে ইসরাইল তার নিজের জন্য হুমকি বলে মনে করে। ধারণা করা হচ্ছে ইরানের সাথে পঞ্চম দফা আলোচনার বিষয়টি গোপন রাখার একটি বড় কারণ এটাই।
অন্যদিকে এখন পর্যন্ত পাশ্চাত্যের কোনো দেশই ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার পঞ্চম দফা আলোচনার সাফল্যকে স্বাগত জানায়নি অর্থাৎ তারা খুশি হতে পারছে না। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোও ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার বিষয়ে নেতিবাচক খবর প্রচার করছে এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে এ দুদেশের সম্পর্কে আরো দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে পাশ্চাত্যের অস্ত্র ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও তারা শঙ্কিত। এ অবস্থান ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যেকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী ষষ্ঠ দফা আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।