জার্মানিতে ইরানের বহু পুরানো ইসলামি কেন্দ্র বন্ধ হতে যাচ্ছে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i115712-জার্মানিতে_ইরানের_বহু_পুরানো_ইসলামি_কেন্দ্র_বন্ধ_হতে_যাচ্ছে
ইরানে বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের প্রতি পাশ্চাত্যের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় জার্মানির ক্ষমতাসীন সরকারের শরীক দলগুলো সেদেশে বহুকাল ধরে অবস্থিত ইরানের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা কেন্দ্র বন্ধের দাবি তুলেছে যা হামবুর্গ ইসলামি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই দলগুলো এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছে এবং খুব শিগগিরি এ বিষয়ে ভোটাভুটি হবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১১, ২০২২ ১২:২৪ Asia/Dhaka

ইরানে বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের প্রতি পাশ্চাত্যের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় জার্মানির ক্ষমতাসীন সরকারের শরীক দলগুলো সেদেশে বহুকাল ধরে অবস্থিত ইরানের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা কেন্দ্র বন্ধের দাবি তুলেছে যা হামবুর্গ ইসলামি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই দলগুলো এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছে এবং খুব শিগগিরি এ বিষয়ে ভোটাভুটি হবে।

১৯৫৩ সালে ইরানের তৎকালীন প্রখ্যাত শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহিল উজমা বুরুজার্দির উদ্যোগে জার্মানির হামবুর্গ শহরে এই ইসলামি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জার্মান ও ফার্সি ভাষায় ম্যাগাজিন প্রকাশ করা এবং পরামর্শ সেবা প্রদান করা এই ইসলামি কেন্দ্রের কার্যক্রমের অংশ। এই কেন্দ্রে ইসলাম ও শিয়া মাজহাব সংক্রান্ত ছয় হাজারের বেশি গ্রন্থের একটি বিশাল গ্রন্থাগার রয়েছে। জার্মানিতে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এই কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং ওই এলাকাটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। এ কারণে ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপ এবং ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠী বহু দিন ধরে ইরানের এই ইসলামি কেন্দ্র বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ লক্ষ্যে তারা নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতো।

কিন্তু ইরানে সম্প্রতি কোনো কোনো মহল বাইরের উস্কানিতে সরকার বিরোধী দাঙ্গা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং এদের প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশ্য সমর্থনের পর হামবুর্গ ইসলামি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা জোরদার হয়েছে। জার্মানির সরকার অভিযোগ করেছে ইরানের পরিচালিত এই ইসলামি কেন্দ্রে ইরান সরকারের নীতিই তুলে ধরা হয়। তাদের ধারণা একটি ইসলামি কেন্দ্র বন্ধ করে দিলেই জার্মানিতে ইরানের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জার্মানির জোট সরকার মনে করছে ইরানে সরকার বিরোধীদের প্রতি সমর্থন দেয়া মানেই মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন দেয়া। আর এ কারণে তারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তারা ইরানের সরকার বিরোধীদের প্রতি সমর্থন দেয়া এবং ওই দেশটির বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও বলছে। বাস্তবতা হচ্ছে ইরানে সরকার বিরোধী দাঙ্গা ও নৈরাজ্য শুরুর পর জার্মানিসহ পাশ্চাত্যের সরকারগুলো ইরানের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দাঙ্গাকারীদেরকে আরো উস্কানি দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জার্মানিসহ ইউরোপের সরকারগুলো সবসময়ই ধর্ম, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার বুলি আওড়ায়। কিন্তু তারপরও তারা হামবুর্গে অবস্থিত ইরানের ইসলামি সংস্কৃতি ও গবেষণা কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যা তাদের দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক। জার্মানির সরকার এমন সময় এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যখন তারা বাকস্বাধীনতার শ্লোগান দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, দাঙ্গাকারী ও সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে উস্কানি দিচ্ছে।

অবশ্য জার্মানি সরকার শুধু ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করেই ক্ষান্ত নেই একই সঙ্গে তারা ইসলামি এ দেশটির বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বারবুক আবারো হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন এবং দাঙ্গাকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। দাঙ্গাকারীদের দমন করার অভিযোগ তুলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। 

তবে ইরান বহুবার ইউরোপকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জার্মানির সামনে দুটি সুযোগই রয়েছে। তারা অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতার পথ বেছে নিতে পারে অথবা সংঘাতের পথ বেছে নিতে পারে। যে পথই বেছে নিক ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে যথোপযুক্ত। # 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।