'দখলদার ইসরাইল তার ঘরোয়া সংকটে দুর্বলতম অবস্থায় রয়েছে'
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর সার্কাস বা কমেডি!
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিআমিন নেতানিয়াহু ইরান-বিরোধী যেসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন ও ইরানের বিরুদ্ধে যে হুমকি দিয়েছেন তা কারো কাছেই গুরুত্ব পায়নি।
দখলদার ইসরাইল তার ঘরোয়া মতবিরোধ ও সংকটের মধ্যে দুর্বলতম অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান।
দুই দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮ তম অধিবেশনে নেতানিয়াহু ইরানকে 'বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক হুমকির মোকাবেলা করতে হবে' বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু নিজেই পরে জানান যে তিনি 'বিশ্বাসযোগ্য সামরিক হুমকির' কথা বলতে গিয়ে ভুলে বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক হুমকির কথা বলেছেন।
যা-ই হোক ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহিয়ান ওই হুমকি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন তেলআবিব হুমকির কথা কেবল মুখেই বলতে পারে কিন্তু বাস্তবে তা করে দেখাতে সক্ষম নয়। তিনি বলেছেন, ভুয়া বা অবৈধ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বর বাস্তবায়ন প্রথমত যেসব কারণে সম্ভব নয় সেসবের অন্যতম হল ইসরাইলিরা এখন অধিকৃত অঞ্চলেই বহু-স্তরযুক্ত সংকটে নিমজ্জিত, দ্বিতীয়ত তার ওই হুমকির ভাষা জাতিসংঘের ইশতিহারের প্রতি অবমাননাকর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মঞ্চকে অপব্যবহারের শামিল।
ইরানের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক আরও বলেছেন, সাধারণ পরিষদে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের অনেক কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর ওই ভিত্তিহীন হুমকিকে 'হাসির নাটক বা কমেডি শো' বলে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকারী ইরানি প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক তৎপরতা সম্পর্কে নেতানিয়াহুর বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে বিষোদগার করে এবং দাবি করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী তার সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর কাছে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র পাঠাচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাতে অচিরেই একটি ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ে উঠবে যেখানে ‘আরবরা ইহুদিদের সঙ্গে’ আরো ঘনিষ্ঠ হবে।
দখলদার প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জবাবে ইরানি প্রতিনিধিদলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তার এই বক্তব্য আর কাউকে বোকা বানাতে পারবে না। ইসরাইলিরা ইরান সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গেলেই পদ্ধতিগতভাবে মিথ্যা ও ভুলে ভরা তথ্য দিতে থাকে এবং তাদের এই কমেডি শো দেখতে দেখতে বিশ্ববাসী ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
ইরানের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী আইএইএ’র কঠোর নজরদারিতে থাকা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ইরানের প্রচলিত সমরাস্ত্রকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, এই কপট ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছে রয়েছে শত শত পরমাণু অস্ত্র যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় গোটা বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে দুইশ থেকে চারশো পরমাণু বোমা রয়েছে বলে মনে করা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় পরমাণু অস্ত্রের একমাত্র অধিকারী সন্ত্রাসী ইসরাইল তার সামরিক পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিদর্শকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এনপিটিতেও স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তেল-আবিব।
অন্যদিকে ইরান এনপিটির সদস্য এবং ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় বৃহৎ শক্তির সঙ্গে পারমাণবিক শান্তি-চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রমাণ করেছে যে তার পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।