অকল্পনীয় পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে ইরান
ইসরাইল যদি ইরানি প্রতিশোধে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে কি জবাব দেবে তেহরান?
-
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর চিফ অফ স্টাফসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা
ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি গতরাতের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে ইরান আরও ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে বলে দেশটির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসলামী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যে কোনো হুমকির কঠোর জবাব দেবে। ইরান তার সামর্থ্যের অতি সামান্য এক অংশই কাজে লাগিয়েছে, তাই ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলুন।
ইরানের সংসদ স্পিকার মুহাম্মাদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ইরান ইসরাইলের সম্ভাব্য উন্মাদনার জন্য প্রস্তুত ও অকল্পনীয় পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের মোকাবেলায় ইরানের পরবর্তী জবাব অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের হবে বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
ইসলামী ইরানের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল মুহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, ইসরাইল যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরোধী কোনো তৎপরতা চালায় তাহলে সত্য প্রতিশ্রুতি-দুই শীর্ষক অভিযানের চেয়েও কয়েক গুণ বড় অভিযান চালানো হবে এবং ইসরাইলের সমস্ত অবকাঠামোতে আঘাত হানা হবে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রাহিম মুসাভি বলেছেন, ইসরাইল যদি আবারও অপরাধে জড়িত হয় তাহলে ইরানের জবাব হবে আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী।
ইরানের আরেকজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা আজিজ নাসেরজাদেহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিশ্রুতি-দুই শীর্ষক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইহুদিবাদীরা যদি দুঃসাহস দেখায় তাহলে ইরানের পদক্ষেপ হবে খুবই কঠোর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরানের পদক্ষেপ শেষ হয়েছে, কিন্তু ইসরাইল যদি প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ইরানের জবাব হবে আরও জোরালো।
ইরান জাতিসংঘের ঘোষণার ৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইসরাইলের সাম্প্রতিক নানা আগ্রাসনে জবাবে যেমন তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা ও লেবাননে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে সন্ত্রাসী হামলায় আহত করাসহ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা লঙ্ঘনের জবাবে এবং লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক সন্ত্রাসী গণহত্যা ও হিজবুল্লাহর প্রধানকে হত্যা করায় গতরাতে (১ অক্টোবর) ইসরাইলের সামরিক ও নিরাপত্তাগত অবস্থানগুলোতে প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে। হিজবুল্লাহর প্রধানকে হত্যার ইসরাইলি অভিযানে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিলফুরুশানও শহীদ হন। এ ছাড়াও সন্ত্রাসী ও দখলদার ইসরাইল গাজায় প্রায় এক বছর ধরে গণহত্যা অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪২ হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে প্রায় এক লাখ। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। #
পার্সটুডে/০২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।