পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে জাতিসংঘ উপ মহাসচিবের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য
জাতিসংঘের উপ মহাসচিব জেফরি ফেল্টম্যান তেজস্ক্রিয় উপাদান মুক্ত বিশ্ব সম্পর্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলেছেন, এক বছর আগে নিরাপত্তা পরিষদ ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাশ করে যাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে যৌথ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। তিনি বলেন, ওই প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে।
জাতিসংঘের উপ মহাসচিব তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ইরান নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে অটল রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনে ইরান সম্পর্কে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’টি দিকের প্রতিই তিনি উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের উপ মহাসচিব ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে বিভ্রান্তিমূলক কিছু কথাবার্তা বলেছেন যার সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার কোনোই সম্পর্ক নেই। তিনি বলেছেন, ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আরো বেশি তদন্ত হওয়া দরকার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, আমেরিকার চাপের মুখে জাতিসংঘের সচিবালয় ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব তার প্রতিবেদনে এটা স্বীকার করেছেন, আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো বরং পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর কোনো কোনো সদস্য তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় তিনি দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি এই সংস্থার উপ মহাসচিবের প্রতিবেদনকে পরমাণু সমঝোতার নীতিমালা এমন কি নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবেরও লঙ্ঘন বলে একে ভারসাম্যহীন ও একতরফা আখ্যায়িত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ভারি পানি উৎপাদন সীমিত করাসহ সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করেছে ইরান। পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরুর ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি পালন করায় জাতিসংঘ মহাসচিব ইরানের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমেরিকা এখন পর্যন্ত তার প্রতিশ্রুতি পালন করেনি।
এদিকে, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানি আলোচক দলের প্রধান আব্বাস আরাকচির উপস্থিতিতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর কোনো কোনো সদস্য পরমাণু বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পালনে যে গড়িমসি করছে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব স্পষ্ট অবস্থান নেবেন বলে সবাই আশা করছে।
দীর্ঘ আলোচনার পর গত বছর ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা পত্রে সই হয় এবং সব পক্ষই প্রতিশ্রুতি পালনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ব্যক্ত করে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তেহরান মনে করে, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার উপায় হচ্ছে, প্রতিশ্রুতি পালনে সব পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে।
ইরান সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিপক্ষ যদি পরমাণু সমঝোতা ভঙ্গ করে তাহলে তেহরানও অনুরূপ পদক্ষেপ নেবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যেমনটি বলেছেন, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে পরমাণু ওয়ারহেড স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জাতিসংঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন নয়। এ ছাড়া, প্রতিরক্ষা বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ ইরান কাউকে দেবে না। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১৯