পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে মুনের আহবান: মার্কিন প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i15205-পরমাণু_সমঝোতা_বাস্তবায়ন_করতে_মুনের_আহবান_মার্কিন_প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার পরও তাতে ইরানের কোনো লাভ হয়নি তেহরানের এমন অভিযোগের পর বান কি মুন এ আহ্বান জানালেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ২১, ২০১৬ ১৩:০১ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার পরও তাতে ইরানের কোনো লাভ হয়নি তেহরানের এমন অভিযোগের পর বান কি মুন এ আহ্বান জানালেন।

ইরানের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতিসংঘ মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া প্রতিবেদনে ইরান ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ, আমেরিকায় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ আটকে রাখা এবং নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে না নেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্তা পাওয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বান কি মুনের কিছু কিছু বক্তব্যের পুরোপুরি বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইরানের কোনো অভিযোগ নিয়ে কথা বলার অধিকার বান কি মুনকে দেয়া হয়নি। বানু কি মুন তার প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া বা শিথিল করার ব্যাপারে অবস্থান পরিষ্কার করতে আবারো আমেরিকার প্রতি আহবান জানিয়েছেন যাতে ব্যবসায়ীরা ইরানে আসতে ভরসা পায়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন করার সাহস পাচ্ছে না এবং তারা এ নিশ্চয়তা চায় যে ইরানের সঙ্গে লেনদেন শুরু করলে আমেরিকা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের কথাবার্তা ও আচরণে বোঝা যায় তারা পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়। এ ছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও এ ব্যাপারে এক ধরণের ঐক্যমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ ইরানের সঙ্গে  যে পরমাণু সমঝোতা হয়েছে তা কোনো ব্যক্তিগত সমঝোতা নয় এবং আমেরিকায় যে দল বা প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় আসুক না কেন তা মেনে চলতে বাধ্য। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে যেসব উত্তেজক কথাবার্তা বলছেন তা কেবল তাদের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা কাজেই লাগবে।

এক বছর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাশ করে এবং এর প্রতি সম্মান  দেখাতে সবাই বাধ্য। জাতিসংঘ মহাসচিব তার প্রতিবেদনে যেমনটি বলেছেন, সব পক্ষেরই উচিৎ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। এ অবস্থায় আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর অন্য সদস্য দেশ চুক্তি বাস্তবায়নে যে গড়িমসি করছে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব পদক্ষেপ নেবে বলে ইরান আশা করছে।

এ ব্যাপারে রুশ পরমাণু আলোচক এবং দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আমেরিকা ও ইউরোপের গড়িমসির ব্যাপারে ইরানের অভিযোগকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মস্কো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে তেহরানের অভিযোগ তদন্ত করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দু’পক্ষের আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিপক্ষ যদি পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন না করে তাহলে তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।  ইরানের সংসদ মজলিশে শূরায়ে ইসলামীও বলেছে প্রতিপক্ষ যদি ওয়াদা পালন না করে তাহলে আমরাও পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে আসব।

এ কারণে জাতিসংঘের মহাসচিব পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আমেরিকার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কেননা তিনি জানেন এটি বাস্তবায়িত না হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।#             পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২১