ইরানের বিভিন্ন শহরে অনুপ্রবেশকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞের পরিসংখ্যান
পার্সটুডে - সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে দ্রব্যমূল বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির জনগণ এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর আমরা রাস্তায় দাঙ্গাবাজ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেছি।
গত কয়েকদিন ধরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইরানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে,কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা এই সমাবেশগুলোতে প্রবেশ করে এই বিক্ষোভগুলোকে দাঙ্গায় পরিণত করেছে।
পার্সটুডে অনুসারে ইরানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মাঠে উপস্থিত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র, ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস, চাপাতি, কুড়াল এবং ছুরি ব্যবহার করেছে। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যা ও জবাই করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা শিরশ্ছেদ, শ্বাসরোধ বা আগুন ধরিয়ে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করেছে। প্রাপ্ত নথি অনুসারে, উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠী দায়েশ-ধাঁচের এই হামলায় বিপুল সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য শহীদ হয়েছেন। নারী, শিশু, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালকসহ রাস্তায় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মানুষও নিহত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যেমন ব্যবসায়ী,দোকানপাট, গুদাম, মসজিদ, গণপরিবহন,সরকারি ও আইন প্রয়োগকারী কেন্দ্র,বাসিজ ঘাঁটি এবং পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ, সবচেয়ে গুরুতর এবং অপরাধমূলক উপায়ে পরিচালিত হয়েছিল।
সন্ত্রাসীদের দ্বারা ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস
ইরানে অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের অস্থিরতার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো এবং ত্রাণ ও পরিষেবা কেন্দ্রে আক্রমণ করা হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি অনুসারে,এই অস্থিরতার সময় প্রায় ১৫০টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করা হয়েছে।
অস্থিরতার সময় রেড ক্রিসেন্টের ক্ষতির সর্বশেষ পরিমাণ
এই বিষয়ে, ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মোজতবা খালিদী বলেছেন, দাঙ্গাকারীরা রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার সরঞ্জাম এবং প্রাঙ্গণে আক্রমণ করেছে, যার মধ্যে একটি প্রদেশে একজন রেড ক্রিসেন্ট সাহায্য কর্মী শহীদ হয়েছেন এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। রেড ক্রিসেন্টের একটি শাখা সম্পূর্ণরূপে পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইসফাহান রেড ক্রিসেন্টের একটি ফার্মেসি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে,তেহরান বাস কোম্পানির সিইও মেহদী আলিজাদেহ বলেছেন: "রাজধানীতে সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময়, দাঙ্গাকারীরা ৭৯টিরও বেশি বাস ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার মধ্যে ২২টিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এমনকি কোম্পানির চালকদেরও মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে। আলিজাদেহ আরো বলেন, 'এই ক্ষতির পাশাপাশি জনগণের কল্যাণের জন্য রাস্তায় নির্মিত বাস স্টপ এবং ট্র্যাফিক সাইনবোর্ডের মতো সরকারি সম্পত্তিরও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।'
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ২৬টি আবাসিক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে
এদিকে, তেহরানের দমকল বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কুদরাতোল্লাহ মোহাম্মদী জানিয়েছেন যে ২৬টি আবাসিক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ৩৪টি মসজিদ, ৪০টি ব্যাংক, ১৫টি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, ১৩টি সরকারি কেন্দ্র এবং ৫০টি সরকারি,জরুরি এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি জানিয়েছেন, দাঙ্গাকারীরা তেহরানের দমকল বিভাগের মোট ৮০০ বিলিয়ন তোমান ক্ষতি করেছে।
দাঙ্গাকারী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিশাল জনসভা
এই প্রেক্ষাপটে, দাঙ্গাকারী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একটি বিশাল জনসভা আজ ১২ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ২:০০ টায় তেহরানের ইনকিলাব স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এবং শহীদদের পরিবার বিশেষ করে দাঙ্গায় শহীদদের পরিবার, সশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং নাশকতাকারীদের অপরাধের নিন্দা জানিয়েছে। এই সমাবেশের পাশাপাশি সমস্ত প্রদেশ এবং প্রাদেশিক রাজধানীতে অন্যান্য জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন