জার্মান চ্যান্সেলরের উদ্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: 'একটু হলেও লজ্জাবোধ করুন'
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
মানবাধিকার প্রশ্নে জার্মানির দ্বৈত মানদণ্ড ও ইরানবিরোধী হস্তক্ষেপমূলক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসকে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটু হলেও লজ্জাবোধ করুন।” একই সঙ্গে তিনি জার্মানিকে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
গতকাল (মঙ্গলবার) জার্মান কর্মকর্তাদের বিশেষ করে দেশটির চ্যান্সেলরের ইরানবিরোধী মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেন, "জার্মানির উচিত পশ্চিম এশিয়ায় তার অবৈধ হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানো। এই হস্তক্ষেপের মধ্যে গাজায় চলমান গণহত্যা ও সন্ত্রাসবাদে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইরান যখন বেসামরিক নাগরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তখন জার্মান চ্যান্সেলর তড়িঘড়ি করে মন্তব্য করেন যে, 'এই সহিংসতা দুর্বলতার প্রকাশ'। তাহলে বলুন মি. মের্ৎস! গাজায় ৭০,০০০ ফিলিস্তিনির গণহত্যার প্রতি আপনার পূর্ণ সমর্থনের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?"
আরাকচি আরও বলেন, "ইরানি জনগণ এখনও ভুলে যায়নি- গত গ্রীষ্মে যখন ইসরায়েল ইরানের আবাসিক এলাকা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বোমাবর্ষণ চালায়, তখন জার্মান চ্যান্সেলর সেই আগ্রাসনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে এটিকে একটি ‘নোংরা কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, যা নাকি ইসরায়েল ইউরোপের স্বার্থে সম্পন্ন করছে।" আরাকচির ভাষায়, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘনের শামিল।
এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস এক বক্তব্যে হস্তক্ষেপমূলক ও ভ্রান্তিকর মন্তব্য করে বলেন, “ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘনিয়ে এসেছে এবং আমরা সম্ভবত এর শেষ কয়েক দিন বা সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।” এই মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তেহরানের কর্মকর্তারা।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইরানি কূটনীতিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে শত্রুতা চায় না; তবে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের একতরফা ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে আরাকচি বলেন, “গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান গণহত্যায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হলেও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব বা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পক্ষ থেকে অভিযুক্ত, তবুও তিনি নির্বিঘ্নে ইউরোপের আকাশসীমা ব্যবহার করে সফর করছেন। অথচ ইরানে কয়েক দিনের সহিংস দাঙ্গার ঘটনাই ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ইরানি কূটনীতিকদের তাদের পার্লামেন্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে 'যথেষ্ট' মনে হয়েছে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অবস্থানকে ইউরোপের নৈতিক দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৪