ইরান কেন শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার উপর জোর দিচ্ছে?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156292-ইরান_কেন_শান্তিপূর্ণ_লক্ষ্যে_ইউরেনিয়াম_সমৃদ্ধকরণের_অধিকার_রক্ষার_উপর_জোর_দিচ্ছে
পার্সটুডে- ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কখনই ত্যাগ করবে না।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ১৬:০১ Asia/Dhaka
  • • জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আলী বাহরাইনি
    • জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আলী বাহরাইনি

পার্সটুডে- ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কখনই ত্যাগ করবে না।

পার্সটুডে জানিয়েছে, জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আলী বাহরাইনি মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সম্মেলনে এ কথা ঘোষণা করেছেন।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকারের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি এই পদক্ষেপগুলিকে জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পারমাণবিক বিস্তার রোধ সংক্রান্ত (এনপিটি) চুক্তির উপর গুরুতর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।

২০২৫ সালের ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে, বাহরাইনি ১৩ জুন ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর ইসরায়েলি আক্রমণকে "অবৈধ, পূর্বপরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের কঠোর লঙ্ঘন" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: "এই আগ্রাসনের পর, ২২ জুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এনপিটির সদস্য নয় এমন একটি সরকারের সাথে সমন্বয় করে, ফোরদো, নাতানজ এবং ইসফাহানে ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত (এনপিটি) চুক্তির জন্য একটি গুরুতর হুমকি।"

শান্তিপূর্ণভাবে পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকারের উপর ইরানের জোরের মূলে রয়েছে আইনি নীতি, কৌশলগত চাহিদা, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা বিবেচনা। এটি একবারের দাবি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইরানের আইনি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ। বিপরীতে, পশ্চিমা দেশগুলি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিক লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে দাবি করে এই অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে; এটি এমন দাবি যা আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রযুক্তিগত বাস্তবতার দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।

নিজ অধিকার সংরক্ষণে ইরানের এই জেদের একটি কারণ হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এর অধীনে রাষ্ট্রগুলির আইনি এবং অবিসংবাদিত অধিকার। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সকল সদস্যের শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ সম্পূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি চক্র ধারণের অধিকার রয়েছে। এনপিটির সদস্য হিসেবে, ইরান কেবল এই অধিকারই ভোগ করে না, বরং বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কঠোর তত্ত্বাবধানে কাজ করে আসছে এবং বারবার বলে আসছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনও বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়নি।

আরেকটি কারণ হলো ইরানের জ্বালানির প্রকৃত চাহিদা এবং জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য। বিশাল জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যবহারের কারণে, ইরান কেবল জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভর করতে পারে না। পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে টেকসই এবং অর্থনৈতিক বিকল্পগুলির মধ্যে একটি। উপরন্তু, ইরান ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি এবং তার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিদেশী দেশগুলির উপর নির্ভর করতে পারে না। পারমাণবিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশগুলির কিছু দেশের সাথে পারমাণবিক সহযোগিতা ছিন্ন করার অভিজ্ঞতা অথবা পশ্চিমাদের রাজনৈতিক চাপ দেখিয়েছে যে জ্বালানি খাতে নির্ভরতা চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অতএব, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি উৎপাদন একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।

আরেকটি কারণ হল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি। ইরান কয়েক দশকের প্রচেষ্টা, ব্যয় এবং চাপের মাধ্যমে দেশীয় সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জন থেকে পিছু হটার অর্থ স্থায়ী নির্ভরতা এবং বৈজ্ঞানিক পশ্চাদপদতা মেনে নেওয়া। পশ্চিমা দেশগুলিও খুব ভালো করেই জানে যে সমৃদ্ধকরণ ইরানের প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক, এবং এই কারণে তারা এটিকে সীমিত করার চেষ্টা করছে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।