যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করবে ইরান ও পাকিস্তান
ইরান ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় পরস্পরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়ের তিন দিনের তেহরান সফর শেষে ওই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব আলী শামখানির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তেহরান সফরে আসেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী ইরান ও পাকিস্তান সুপ্রতিবেশী ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্ব ও আঞ্চলিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে দু’দেশ যৌথ কমিশন গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলা করা আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ সারা মুসলিম বিশ্বের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে আগ্রাসী রূপে দায়েশ আবির্ভূত হয়েছে বহু বছর ধরে এ অঞ্চলে তার ভিত্তি রচনা করা হয়েছে। সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এভাবে তারা উগ্র ও সন্ত্রাসীদেরকে নিজের অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অনৈক্য সৃষ্টি করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
ইরানের পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমি ব্যবহার করে কোনো কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ ইরানের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তার কঠোর জবাব দিয়েছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ আমেরিকা ও ইসরাইলের মদদপুষ্ট। সন্ত্রাসীরা কেবল একটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক এবং আফ্রিকার অনেক দেশ, ইউরোপ এমনকি আমেরিকাও সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে নিরাপদ নয়।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, ইরাকের কাজেমাইন, সিরিয়ার কমশেলি এলাকা এবং ফ্রান্সে সম্প্রতি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শত শত মানুষ হতাহত হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় সারা বিশ্বের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
ইরান বহুবার বলেছে, ধর্মের নামে যে উগ্র বিভ্রান্ত মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছে সেই মতাদর্শের স্বরূপ তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের অর্থ, অস্ত্র ও সমর্থন দেয়া বন্ধ করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।#
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২৮