এফ-৩৫-সহ আরও দু’টি উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i158210-এফ_৩৫_সহ_আরও_দু’টি_উন্নত_মার্কিন_যুদ্ধবিমান_ভূপাতিত_করেছে_ইরান
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও দুটি উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় এফ-৩৫-ও রয়েছে। একইসঙ্গে 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর বিস্তৃত পরিধির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-09T15:13:27+00:00 )
এপ্রিল ০৩, ২০২৬ ০৯:০০ Asia/Dhaka
  • এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
    এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও দুটি উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় এফ-৩৫-ও রয়েছে। একইসঙ্গে 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর বিস্তৃত পরিধির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে।

এই অভিযানগুলো ইরানের দ্রুত ও ব্যাপক প্রতিশোধের অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করা উসকানিমূলক হামলার জবাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির ওপর তাদের পূর্ববর্তী হামলার প্রায় আট মাস পরে এই হামলা চালানো হয়।

আজ (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্য ইরানে একটি স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। বিমানটি যুক্তরাজ্যের লেকেনহিথ ঘাঁটির স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসি জানায়, বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিধ্বস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে একই দিনে আইআরজিসি জানায়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আরেকটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরে সেটি হেঙ্গাম ও কেশম দ্বীপের মাঝামাঝি অঞ্চলে ‘পারস্য উপসাগরের গভীরে’ বিধ্বস্ত হয়।

আইআরজিসি এই ঘটনাকে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিথ্যা দাবির পর যে আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, কিছুক্ষণ আগেই কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমান আইআরজিসি নৌবাহিনীর আধুনিক উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা দেশের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

এর আগে ১১ মার্চ আইআরজিসি মধ্য ইরানের আকাশসীমায় একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে আঘাত করার দাবি করেছিল। পরে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, একটি এফ-৩৫ পশ্চিম এশিয়ার একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে, যা সম্ভবত ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এনপিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি দ্রুত পুনরায় কাজে ফিরতে পারবে না।

এছাড়া চলমান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী তিনটি এফ-১৫ ও একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকারের ক্ষতি নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগন ধারাবাহিকভাবে এই বিপর্যয়কর ক্ষতিগুলো গোপন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সেগুলোকে "স্বপক্ষের গুলি" বা "দুর্ঘটনা" হিসেবে চিত্রিত করছে। সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী নেভাদায় একটি এফ-৩৫ বিধ্বস্তের ঘোষণা দিয়েছে, যা সামরিক বিশেষজ্ঞরা ব্যাপকভাবে ইরানের সাথে যুদ্ধে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষতি ঢাকতে একটি হতাশাজনক আখ্যান হিসেবে দেখছেন।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও পাইলট ঘাঁটিতে হামলা

আজ ভোর থেকে আইআরজিসি নৌবাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯১তম ধাপ অব্যাহত রেখেছে। এই পর্যায়ে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কাদির ক্রুজ মিসাইল এবং আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

উত্তর ভারত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপকে চারটি ক্রুজ মিসাইল দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরবর্তী ধাপে, নির্ভুলভাবে নির্দেশিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি মার্কিন ঘাঁটির বাইরে পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারদের গোপন সমাবেশস্থলে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে ব্যাপক হতাহতের প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া, ইরানি বাহিনী কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন "এমকিউ১" ড্রোন ইউনিটের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালায়।

ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলেও ব্যাপক হামলা

একই সঙ্গে হামলার এই ধারা ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলেও বিস্তৃত হয়। পশ্চিম তেল আবিব এবং এলাত বন্দরে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি।

তারা দাবি করে, দূরপাল্লার তরল ও কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারী মিসাইল ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা চালানো হয়।

এই ধাপের অভিযান আইআরজিসির এয়ারোস্পেস বাহিনী এবং ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

আইআরজিসি জানায়, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে অধিকৃত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং পাঁচ মিলিয়নের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার ব্যাপকতা ‘ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য গোপন বা বিকৃত করার সক্ষমতা’ কমিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে এই সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে।

পার্সটুডে/এমএএইচ/৩