যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ১০ দফা দাবি ইরানের
-
যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ১০ দফা দাবি ইরানের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের জবাব পেশ করেছে ইরান। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বদলে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই দশ-দফা শর্তে অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং পরিবর্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান পারমাণবিক আলোচনার মাঝে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি দাবি করা হয়েছে।
এই পাল্টা প্রস্তাবে, ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায় সে সম্পর্কে তাদের দাবি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন, লেবাননসহ অঞ্চলজুড়ে সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ট্রানজিটের জন্য একটি প্রোটোকল, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা, যুদ্ধের সময় ইরানের যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, আমেরিকার যুদ্ধবিরতি মানে হলো- নতুন করে শক্তি অর্জনের সুযোগ নেয়া এবং এরপর আবার অপরাধ শুরু করা। কোনো বুদ্ধিমান মানুষ এটি গ্রহণ করবে না।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের লক্ষ্য ইরান ও ইরানিদের ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনগোষ্ঠী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসন শুরু করে, যখন তেহরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ব্যস্ত ছিল।
কুটনীতিক শিষ্টাচার ও আন্তর্জাতিক রীতিরীতি লঙ্ঘন করে চালানো ওই হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী শহীন হন। তারপর থেকে দেশজুড়ে হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অধীনে শতাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যাতে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক ও ব্যবসায়িক স্থাপনাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান বলছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি, যার মধ্য দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল চালান হয়, আগ্রাসী শাসন গোষ্ঠী ও তাদের মিত্রদের বাদে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত।#
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।