হরমুজ প্রণালিতে ‘নতুন আদেশ’:
‘আইআরজিসির অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না’
-
হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির নৌবাহিনীর টহল
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের জন্য আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আজ (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সব বাণিজ্যিক জাহাজ শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট দিয়েই যাতায়াত করতে পারবে। সামরিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর মতে, বাণিজ্যিক বা অন্য যেকোনো ধরনের যাতায়াত কেবল আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্পষ্ট অনুমোদন নিয়েই অনুমোদিত হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই যাতায়াত চলমান ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এবং বৃহস্পতিবার শেষ রাতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের ৪০ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের পর এই নতুন পদক্ষেপগুলো জলপথের ওপর ইরানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণকে ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক টিভি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌ-অবরোধ সংক্রান্ত বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, "কেউ তাঁর কথা শোনে না।" তিনি বলেন, ট্রাম্প তার বন্ধুদের ওপর ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপ করেছেন, ইরানের ওপর নয়। তিনি একে ‘ডাকাতি ও জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল ইরানি বলেন, "আজ পর্যন্ত, আমরা মার্কিন ও ইসরাইলি বিমানবাহী রণতরী এবং মেরিন বাহিনীকে ওমান সাগরে প্রবেশ করতে দিইনি।"
এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "লেবাননে যুদ্ধবিরতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে, যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত সমন্বিত রুটে হবে।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি তার মন্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটটি ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরান কর্তৃক নির্ধারিত রুটে এবং ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান প্রণালীর উত্তর ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের অনন্য অবস্থানে রয়েছে, কারণ পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর বরাবর ইরানের উপকূলরেখা ১,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কৌশলগত জলপথটি আলোচনায় ছিল, যখন মার্কিন-ইসরাইল জোট ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিনাপ্ররোচণায় আগ্রাসন শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর জবাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন ও তার মিত্র জাহাজের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৭