বন্দর আব্বাসে মার্কিন আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
-
ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরনা'র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, বাকায়ি এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এই মার্কিন আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব হলো এই আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগর ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশপথে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আসছে।
বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে।
তিনি আরও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার 'হুমকিমূলক বক্তব্য' এবং ওমানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ভাষার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রতি ইরানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ওমানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাকায়ি বলেন: "জাতিসংঘের একটি সদস্য দেশকে 'ধ্বংস' করার হুমকি দেওয়া—যে দেশ সবসময় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গঠনমূলক, কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং দীর্ঘ বছর ধরে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছে—তা কেবল বলপ্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধকরণের মৌলিক নীতির লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইন অমান্য ও দাদাগিরিকে স্বাভাবিক করার আরেকটি বিপজ্জনক লক্ষণ।"
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবমাননা ও বলপ্রয়োগের স্বাভাবিকীকরণের ঝুঁকি বাড়ায়।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৮