তেহরানসহ তিন শহরে জানাজার পর মাশহাদে সমাহিত হবে শহীদ আলী খামেনেয়ী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i159954-তেহরানসহ_তিন_শহরে_জানাজার_পর_মাশহাদে_সমাহিত_হবে_শহীদ_আলী_খামেনেয়ী
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষে এবং মহররম মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান সিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আমিন তাওয়াকোলিজাদেহ।
(last modified 2026-06-02T18:49:12+00:00 )
জুন ০৩, ২০২৬ ০০:৪১ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেধ আলী খঅমেনেয়ীর ছবি হাতে ইরানি নারীরা
    আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেধ আলী খঅমেনেয়ীর ছবি হাতে ইরানি নারীরা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষে এবং মহররম মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান সিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আমিন তাওয়াকোলিজাদেহ।

ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে তিনি বলেন, রাজধানী তেহরানে বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, শুধু তেহরানেই ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে।

তাওয়াকোলিজাদেহ জানান, “দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে জানাজা অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য অনুরোধ এসেছে। অনুষ্ঠানটি সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষ এবং মহররম মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে। তেহরানের জানাজার কর্মসূচি অন্তত ২৪ ঘণ্টা চলবে।“

তিনি বলেন, মাশহাদে সবচেয়ে বড় সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তাওয়াকোলিজাদেহ আরও বলেন, এটি শিয়া মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন মাজহাব ও দেশের মুসলমানরাও এতে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ইরাকের বিচার বিভাগের প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, খামেনেয়ীর মৃত্যুর পর প্রথম ৪০ দিনে দেশটিতে কোনো শিয়া বিয়ে নিবন্ধিত হয়নি। একই সময়ে ইরাকের বিভিন্ন শহরে প্রতীকী জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর জানাজা শুধু ইরানের জন্য নয়, বিশ্বের বহু মুসলমানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার ভাষায়, তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নেতা এবং ইসলামি বিপ্লবের পথপ্রদর্শক।

ইরানের বাইরে কাশ্মীর, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনেও শোকানুষ্ঠান ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান, কোম ও মাশহাদে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর মরদেহ মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.)-এর দরগাহে দাফন করা হবে।  

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক হামলার প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী শহীদ হন। ওই হামলায় কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বহু বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মিনাব শহরের কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থীও ছিল। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী "অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪" এর আওতায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরু থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২