কারার ট্যাংক: আধুনিক সাঁজোয়া প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতার প্রতীক
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160762-কারার_ট্যাংক_আধুনিক_সাঁজোয়া_প্রযুক্তিতে_ইরানের_সক্ষমতার_প্রতীক
পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সাঁজোয়া ও অসাঁজোয়া বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান ডিজাইন ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক ‘কারার’-এর নকশা ও উৎপাদন।
(last modified 2026-06-26T14:46:30+00:00 )
জুন ২৬, ২০২৬ ২০:৩৭ Asia/Dhaka
  • কারার ট্যাংক
    কারার ট্যাংক

পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সাঁজোয়া ও অসাঁজোয়া বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান ডিজাইন ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক ‘কারার’-এর নকশা ও উৎপাদন।

উদ্বোধন

কারারকে ইরানের প্রথম উন্নত দেশীয় ট্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার প্রকৌশলীরা মাত্র তিন বছরে এটি ডিজাইন ও নির্মাণ করেন। ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর (ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২২ এসফান্দ ১৩৯৫) ট্যাংকটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয় এবং একই সময়ে লোরেস্তান প্রদেশের দোরুদে অবস্থিত বনি হাশেম সাঁজোয়া শিল্প কারখানায় এর উৎপাদন লাইন চালু হয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কারার মূলত রাশিয়ার টি-৭২ ট্যাংকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত ইরানি উন্নয়ন প্রকল্প। কিছু ক্ষেত্রে এর নকশা ও সক্ষমতা আধুনিক রুশ টি-৯০এমএস ট্যাংকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য

কারার ট্যাংকে নতুন প্রজন্মের উন্নত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১,০০০ থেকে ১,২০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এছাড়া ১,৩০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দেশীয় ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ট্যাংকটি উন্নত কম্পিউটারভিত্তিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সরঞ্জাম, ১০ কিলোমিটার পাল্লার লেজার রেঞ্জফাইন্ডার, ব্যালিস্টিক কম্পিউটার এবং দিন-রাত উভয় সময়ে স্থির ও চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি। এটি অত্যন্ত নির্ভুল লেজার-নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করতে পারে।

উন্নত লক্ষ্যভেদ ব্যবস্থা

কারারে তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারাইজড ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম রয়েছে। এতে টি-৭২ ট্যাংকের রাতের লক্ষ্যভেদ ব্যবস্থা এবং ইরানের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে নির্মিত মাল্টি-চ্যানেল লক্ষ্যভেদ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে।

ট্যাংকটিতে ইরানে উৎপাদিত তন্দর নামের লেজার-নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে, যা ট্যাংকের কামান থেকেই নিক্ষেপ করা যায়।

অস্ত্রসজ্জা

কারার ট্যাংকটি ১২৫ মিলিমিটার কামানে সজ্জিত, যা টি-৭২ ট্যাংকের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য অস্ত্রব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই কামান থেকে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা সম্ভব।

এছাড়া ট্যাংকে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত মেশিনগান স্থাপন করা হয়েছে, যা ক্রুরা ট্যাংকের ভেতর থেকেই পরিচালনা করতে পারেন। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে এবং পদাতিক বাহিনী ও হালকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর।

সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

কারারের টারেট বা কামানবাহী অংশে উন্নত সাঁজোয়া আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ট্যাংকের পাশ ও পেছনে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক বর্ম এবং খাঁচা-ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা বিশেষ করে আরপিজি-৭-এর মতো অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর।

এতে ইরানি নির্মিত লেজার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র বা রেঞ্জফাইন্ডারের সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোঁয়ার পর্দা তৈরি করে ট্যাংককে আড়াল করতে সাহায্য করে।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সক্ষমতা

কারার ট্যাংক তাপীয় (থার্মাল) অনুসন্ধান ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য বিশেষ আবরণ ব্যবহার করে। এটি পাহাড়ি, পাথুরে ও দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচল করতে পারে, নদী পার হতে পারে এবং পানির নিচ দিয়েও অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

এছাড়া এতে রয়েছে:

  • বহুমাত্রিক ছদ্মবেশ প্রযুক্তি  
  • আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা
  • ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা
  • ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবিলার সক্ষমতা
  • উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা

কারার ট্যাংকের কারিগরি তথ্য

৫১ টন ওজনের এই ট্যাংকের দৈর্ঘ্য কামানসহ ৯.৫ মিটার, প্রস্থ ৩.৭ মিটার এবং উচ্চতা ২.৩ মিটার। এটি পরিচালনার জন্য তিনজন ক্রু প্রয়োজন হয়: একজন কমান্ডার, একজন চালক এবং একজন গানার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারার ট্যাংক শুধু একটি সামরিক যান নয়; এটি ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।