হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর দায়িত্ব শুধুই ইরানের: আরাকচির স্পষ্ট ঘোষণা
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি রোববার বাগদাদে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেইনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
পার্সটুডে – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইরানের এবং এটি ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়িত হবে।
পার্সটুডে, ইরনার বরাতে জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি রোববার বাগদাদে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেইনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে ইরাক সরকার দায়িত্বশীল ও সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের জনগণের ব্যাপক সংহতি ও সমর্থন ইরানের জনগণকে সাহস জুগিয়েছে।
আরাকচি জানান, তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শহীদ ইরানি নেতার পবিত্র মরদেহ বাগদাদ, কাজিমাইন, কারবালা ও নাজাফে নিয়ে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি সমন্বয় করা। তিনি বলেন, লাখো ইরাকি এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ইরাক সরকারের সহযোগিতায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, দেশটির বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে পবিত্র ধর্মীয় নগরীগুলোতে মরদেহের শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরানের ব্যবস্থাপনায় এবং প্রয়োজনীয় বাধা অপসারণের পর ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে। এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইরানের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়ে অন্য কোনো দেশ বা সংস্থার কোনো দায়িত্ব নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা ইরানের উদ্যোগের বাইরে আলাদা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হতে বিলম্ব ঘটাবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।
আরাকচি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইসরাইল এখনও হামলা অব্যাহত রেখেছে। তার মতে, সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইসরাইলকে এসব হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা, যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করা এবং দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন বলেন, ইরান ইরাকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, ইরাকে নতুন সরকার গঠনের পর এবং সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আরাকচি এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমঝোতা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির আশপাশে এখনও কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ফুয়াদ হুসেইন ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইরাকের নীতিগত অবস্থান হলো যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরোধিতা করা।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের ধারাবাহিকতা পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। তাই অঞ্চলকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে সংলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আতিথ্য দিতে বাগদাদ প্রস্তুত রয়েছে।#
পার্স টুডে/এমবিএ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।