ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার দাবি ভণ্ডামি
-
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেন এজেয়ি
পার্সটুডে: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেন এজেয়ি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার স্বভাবেই হত্যা ও অপরাধ গভীরভাবে প্রোথিত,” এবং তিনি দাবি করেন যে মানবতা ও মানবাধিকারের প্রতি শত্রুতা মার্কিন নেতাদের চিন্তাধারার মধ্যেই নিহিত।
রোববার কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের “সপ্তাহব্যাপী আমেরিকার মানবাধিকার পর্যালোচনা ও উন্মোচন” কর্মসূচির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রক্ষার দাবিকে “হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অপরাধ ও হত্যা হলো এই দুষ্ট মার্কিন শাসনের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, এবং মানবতা ও মানবাধিকারের প্রতি শত্রুতা তাদের নেতাদের মানসিকতার মধ্যেই গভীরভাবে স্থাপিত।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক আগ্রাসন বা অর্থনৈতিক চাপই নয়, বরং “মিডিয়া যুদ্ধ”কেও একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা মিথ্যা তথ্য ও বিকৃত উপস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতাকে উল্টে দেয়, মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে এবং নিজের অপরাধ ঢেকে রাখে। এ জন্য তারা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, সমান্তরাল বর্ণনা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করে।
বিচার বিভাগের প্রধান আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে। বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রমাণ সংগ্রহ ও ফৌজদারি মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী প্রমাণ, নথি, ছবি এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করা এই মামলাগুলো এগিয়ে নেওয়ার একটি মৌলিক নীতি।
ওয়াশিংটনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করে, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেন এজায়ি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল—যার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, “এই ধরনের কিছু স্থান সামরিক ঘাঁটি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। এগুলো স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ এবং প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদাভাবে অভিযোগপত্র (ইন্ডিক্টমেন্ট) জারি করা যেতে পারে।” মোহসেনি-এজেয়ি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপুল পরিকল্পনা ও সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধানের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেছিলেন যে, ব্যাপক বিমান হামলা এবং ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে মাঠে সক্রিয় করার মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানকে নতজানু করা সম্ভব হবে। তিনি দাবি করেন, ব্যাপক সমন্বয়, সুপরিকল্পিত সামরিক প্রস্তুতি এবং আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পরও শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। #
পার্স টুডে/এমবিএ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।