তেহরানে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা, আজাদি স্কয়ারের পথে শহীদ নেতার কফিন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161082-তেহরানে_১০_কিলোমিটার_দীর্ঘ_শোকযাত্রা_আজাদি_স্কয়ারের_পথে_শহীদ_নেতার_কফিন
ইরানের রাজধানী তেহরানের রাজপথ পরিণত হয়েছে শোক, শ্রদ্ধা ও আবেগের এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর পবিত্র দেহ-মুবারক বহনকারী শোকযাত্রা রাজধানীর আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষের ঢলে রাস্তাঘাট পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(last modified 2026-07-06T08:34:14+00:00 )
জুলাই ০৬, ২০২৬ ১২:৫৯ Asia/Dhaka
  • শহীদ নেতার কফিনবাহী গাড়ি
    শহীদ নেতার কফিনবাহী গাড়ি

ইরানের রাজধানী তেহরানের রাজপথ পরিণত হয়েছে শোক, শ্রদ্ধা ও আবেগের এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর পবিত্র দেহ-মুবারক বহনকারী শোকযাত্রা রাজধানীর আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষের ঢলে রাস্তাঘাট পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সকাল ৬টায় আজাদি স্ট্রিট ও ইয়াদেগারে ইমাম মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত মাহদিয়া ইমাম হাসান (আ.) এলাকা থেকে মূল শোকযাত্রা শুরু হয়। শোকমিছিলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শহীদ নেতার কফিন, যার সঙ্গে বহন করা হচ্ছে তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন শহীদ সদস্যের মরদেহ। এর মধ্যে রয়েছেন তাঁর কন্যা সাইয়্যেদাহ বুশরা হোসাইনি-খামেনেয়ী, জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকিরী-কানি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানি। তারা সবাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রথম দিন শহীদ হন।

প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোকযাত্রার পথ নির্ধারণ করা হয়েছে তেহরানপার্স চৌরাস্তা, দামাভান্দ সড়ক, ইমাম হোসেইন (আ.) চত্বর, ইনকিলাব সড়ক ও চত্বর, আজাদি সড়ক ও চত্বর এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী শহীদ লাশকারি মহাসড়ক পর্যন্ত। আয়োজকদের ধারণা, এই ঐতিহাসিক শোকযাত্রা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রধান সড়কের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মোড় ও সংযোগপথকেও শোকযাত্রার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইমাম খোমেনি মোসাল্লা জনসমুদ্র

কালো পোশাকে সজ্জিত শোকাহত নারী-পুরুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, শহীদ নেতার প্রতিকৃতি, কালো শোক-পতাকা এবং প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা। তারা বুক চাপড়ে মাতম করেছেন, কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এবং শোকগাথা পাঠের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টারে শহীদ খামেনেয়ীর নেতৃত্ব, সংগ্রাম ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

শোভাযাত্রাজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং শহীদ নেতার আদর্শের প্রতি আনুগত্যের স্লোগান। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত মানুষের পাশাপাশি বিদেশি অতিথিরাও এই ঐতিহাসিক বিদায়যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। জনগণের উদ্যোগে স্থাপিত অসংখ্য মাওকেব ও স্বেচ্ছাসেবী সেবাকেন্দ্র শোকাহতদের জন্য খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা করেছে।

এর আগে রোববার আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি শহীদ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে উপস্থিত হয়েছে।

তেহরানের এই কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোম-এ জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ইরাকে নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ বিদায় ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। সবশেষে, শহীদ নেতার ওসিয়ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মাশহাদ-এ জানাজা শেষে তাঁকে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৫