ইরানে মার্কিন আগ্রাসন: রেহাই পেল না শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালও 
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161352-ইরানে_মার্কিন_আগ্রাসন_রেহাই_পেল_না_শিশুদের_ক্যানসার_হাসপাতালও
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী তৎপরতার মুখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ইরানের জনপদ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কৌশলগত শহর আহওয়াজসহ বেশ কয়েকটি বন্দর নগরীতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার সবচেয়ে বড় ও অমানবিক আঘাতটি এসেছে আহওয়াজের শিশুদের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের ঠিক কাছাকাছি এলাকায়, যা পুরো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।
(last modified 2026-07-16T07:01:09+00:00 )
জুলাই ১৬, ২০২৬ ১২:৫৫ Asia/Dhaka
  • ‘বাকায়ি হাসপাতাল’-এর নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন হামলা
    ‘বাকায়ি হাসপাতাল’-এর নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন হামলা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী তৎপরতার মুখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ইরানের জনপদ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কৌশলগত শহর আহওয়াজসহ বেশ কয়েকটি বন্দর নগরীতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার সবচেয়ে বড় ও অমানবিক আঘাতটি এসেছে আহওয়াজের শিশুদের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের ঠিক কাছাকাছি এলাকায়, যা পুরো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

আহওয়াজের স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে শহরটির বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর একের পর এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার সময় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শিশুদের কেমোথেরাপিসহ ক্যানসারের জটিল চিকিৎসায় নিয়োজিত ‘বাকায়ি হাসপাতাল’-এর অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে চিকিৎসাধীন শিশু ও রোগীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা রোগীদের স্বজনদের সহায়তায় পুরো ভবন খালি করার কাজ শুরু করেন।

আহওয়াজ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এক জরুরি ঘোষণায় জানিয়েছে, সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর রোগী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাকায়ি হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত অন্য একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আহওয়াজের পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্যান্য সীমান্ত ও বন্দর নগরীগুলোতেও মার্কিন আগ্রাসনের খবর পাওয়া গেছে। সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের বন্দর নগরী চ'বাহারেও বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। হরমুজগান প্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী একটি এলাকায় স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। হরমুজগানের গভর্নর-জেনারেলের কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে সিরিক এলাকার কাছে এবং তার ঠিক দুই মিনিট পর, ১২টা ৫৭ মিনিটে কেশম দ্বীপের বেশ কয়েকটি স্থানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হেনেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের তদারককারী সংস্থা সেন্টকম এই নতুন দফার হামলার দায় স্বীকার করে এটিকে নিয়মিত অভিযানের অংশ বলে দাবি করেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এটিকে সম্পূর্ণ উস্কানিমূলক ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ওয়াশিংটন একের পর এক চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত হেনে আসছে। এমনকি গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত—"সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ রাখতে হবে"—সেটি সই করার পরও মার্কিন হামলা থামেনি।

সামরিক সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে ইরান নির্ধারিত নিরাপদ ও আইনি নৌপথ এড়াতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী জাহাজগুলোকে জোরপূর্বক পাহারা দিয়ে পার করার চেষ্টা করছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বেআইনি আগ্রাসন ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে আপসহীন এবং কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৬