মসুল অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে ইরান: ইরাকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i16171-মসুল_অভিযানে_সহায়তা_দিচ্ছে_ইরান_ইরাকি_প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ আল ওবাইদি তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে তার দেশের লড়াইয়ে ইসলামী ইরানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেছেন। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ০১, ২০১৬ ১৬:৪০ Asia/Dhaka
  • ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ আল ওবাইদি
    ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ আল ওবাইদি

ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ আল ওবাইদি তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে তার দেশের লড়াইয়ে ইসলামী ইরানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেছেন। 

ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, ইরান ও ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ব্যাপক সামরিক সহযোগিতা রয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে মসুল উদ্ধার অভিযানের প্রক্রিয়ায় বাগদাদকে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সহায়তা দিচ্ছে তেহরান। তার এই সাক্ষাৎকার শনিবার প্রচারিত হয়েছে। 
ইরান সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে ইরাককে বহুবার সহায়তা দিয়েছে এবং এই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে ইরাকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান। ইরানের সামরিক প্রকৌশলী ও উপদেষ্টারা ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা আর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। 
ইরাক সরকারের অনুরোধে ইরানি সামরিক উপদেষ্টারা ইরাকে এসেছেন বলে ওবাইদি জানান। 
মসুল উদ্ধার অভিযানে কেবল ইরাকি সেনারাই অংশ নেবে বলে তিনি জানান। মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ইরাক সরকার অন্য কোনো দেশকে মসুল উদ্ধার অভিযানে হস্তক্ষেপ করত দেবে না। দায়েশ ২০১৪ সালে ইরাকের নিনেভা প্রদেশের রাজধানী মসুল দখল করে। এরই মধ্যে মসুল উদ্ধারের জন্য আশপাশের নানা এলাকায় অগ্রাভিযান চালিয়েছে ইরাকি সেনারা। দায়েশের কেন্দ্রীয় নেতারা মসুল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলেও খবর এসেছে। 
 ইরাকি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীও মসুল উদ্ধারে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দেবে। গত কয়েক মাসে ফালুজাসহ বেশ কয়েকটি শহর দায়েশের হাত থেকে উদ্ধার করার অভিযানে ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি এই স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীও অংশ নিয়েছে। ইরাকের শিয়া ও সুন্নি যুবকরা এই বাহিনীতে কাজ করছে।
চলতি বছরের শেষের দিকে মসুল পুনরুদ্ধারের জন্য ইরাকি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালাবে বলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। 
তিনি তুর্কি সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুর্কি সেনারা যদি উত্তর ইরাক ত্যাগ না করে তাহলে দায়েশের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের চেয়েও বড় ধরনের যুদ্ধ হবে তুরস্কের সঙ্গে। 
এদিকে তেহরানে নিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূত রাজি সাবির আব্বুদ আল মুসাভি বলেছেন, ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি যদি দেশটির স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ও ইরানের সহায়তা না থাকতো তাহলে এতদিনে আরব এই দেশটির পতন ঘটতো এবং দেশটির ভৌগলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ হত। আর ইরাকের পতন ঘটলে এ অঞ্চলের সব দেশেই নৈরাজ্য দেখা দিত বলে তিনি জানান।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাগদাদ ও তেহরানের সম্পর্ককে তিনি কৌশলগত বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন, ইসরাইলি ও কয়েকটি আঞ্চলিক সরকারের সর্বাত্মক মদদপুষ্ট তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ইরাকের ব্যাপক অংশ দখল করা শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে দায়েশের হাতে ইরাকের মাত্র দশ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে বাগদাদ সরকার সম্প্রতি খবর দিয়েছে। #