ক্ষমতার সামনে আইন নীরব হয়ে গেলে আস্থা ভেঙে পড়ে: বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়িল বাকায়ি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, অবকাঠামোর ওপর হামলা কিংবা হামলার হুমকি যদি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়, তাহলে কোনো দেশই অন্য দেশের আগ্রাসন থেকে নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়িল বাকায়ি ১৯৪৯ সালের চারটি জেনেভা কনভেনশন অনুমোদনের ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, ১২ আগস্ট ১৯৪৯ সালের চারটি জেনেভা কনভেনশন অনুমোদনের বার্ষিকী। এসব কনভেনশনে যুদ্ধের আইন তথা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ‘পার্থক্য নির্ধারণ’, ‘সমানুপাতিকতা’, ‘সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও যন্ত্রণা প্রতিরোধ’-এ ধরনের মৌলিক নীতির ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল যুদ্ধকে আরও মানবিক করার জন্য।
বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৪৯ সালে এই চারটি কনভেনশনের প্রতিষ্ঠাতারা নিশ্চয়ই কল্পনা করেন নি যে ২০২৬ সালে, এসব দলিল অনুমোদনের ৭৭ বছর পর, জাতিসংঘের সদর দপ্তরের দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র বারবার কোনো দেশের অবকাঠামো, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেবে এবং বাস্তবেও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জেনেভা কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং এসব কনভেনশনের আমানতকারী দেশ সুইজারল্যান্ড-এ ধরনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন, যা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ হতে পারে, তা উপেক্ষা করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, জেনেভা কনভেনশনের অভিন্ন প্রথম অনুচ্ছেদ শুধু রাষ্ট্রগুলোকে এসব বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেয় না; বরং তাদের কনভেনশনের বিধানসমূহের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্বও দেয়। বাকায়ির ভাষায়, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকির মুখে নীরব থাকা শুধু রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা নয়; এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে মানবসভ্যতার অন্যতম মৌলিক অর্জনকে দুর্বল করে।
তিনি বলেন, “যেখানে ক্ষমতার সামনে আইন নীরব হয়ে যায়, সেখানে শুধু একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রই ধ্বংস হয় না; আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার ওপর মানবজাতির আস্থাও ভেঙে পড়ে।” বাকায়ি আরও সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বা হামলার হুমকি যদি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়, তাহলে কোনো দেশই তার হাসপাতাল, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, সেতু, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অন্য দেশের হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে-এমন নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। তার মতে, এটি শুধু কোনো একটি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়; বরং সভ্যতা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের পথে মানবজাতি যে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তার জন্যও এটি একটি পশ্চাদপসরণ।#
পার্সটুডে/এনএম/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।