অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফ্রন্টেও শত্রুরা পরাজিত হবে: আরেফ
-
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদরেজা আরেফ
পার্সটুডে-ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রতিরোধী অর্থনীতি বাস্তবায়ন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা নিশ্চিত, এই ফ্রন্টেও শত্রু পরাজিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, মোহাম্মাদরেজা আরেফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে আত্মসমর্পণ বা উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে এবং সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ইরানের কৌশল ছিল বিপ্লবের শহীদ নেতার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে দেশের জনগণ ও অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে উন্নত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। আজ বিশ্ব বুঝতে পেরেছে, ইসরায়েল যে ‘পারমাণবিক লাঠি’ দেখিয়ে আসছিল, সেটি ছিল মিথ্যা। তাদের সেই প্রচারণার আর কোনো প্রভাব নেই।
আরেফ বলেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যায়। তাদের ধারণা ছিল, ইরানের জনগণ তাদের পক্ষে রাস্তায় নামবে। কিন্তু ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের জনগণ আবারও পশ্চিমাদের হিসাব ভুল প্রমাণ করে শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতির আবেদন করতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেন, এরপরও ইরানের সরকারব্যবস্থা উৎখাতের কৌশল থেকে শত্রু সরে যায়নি। ১৯৫৩ সালের ২৮ মর্দাদ অভ্যুত্থানের আদলে তারা রাজনৈতিক-সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এসব ঘটনায় দেশকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে এবং উভয় পক্ষের তিন হাজারেরও বেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছে—যাদের কেউ রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষায় মাঠে নেমেছিল, আবার কেউ বুঝতে না পেরে আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করেছিল।
আরেফ বলেন, ইরান সরকার সর্বাত্মক যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার শাহাদাত ব্যবস্থা ও গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় আঘাত ছিল। তবে সমাজ আবারও তার অসাধারণ সক্ষমতা দেখিয়েছে। শহীদদের রক্তের বরকতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছে এবং প্রায় ১৯০ রাত ধরে দেশ ও সরকারব্যবস্থার সমর্থনে রাস্তায় অবস্থান করছে।
প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, শত্রু ভেবেছিল ২৮ মর্দাদের অভ্যুত্থানের মতো কিছু নিম্নস্তরের দুষ্কৃতকারীকে ব্যবহার করে তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। কিন্তু এই হিসাবও ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং মূল্যবান সামাজিক শক্তি সরকারের সমর্থনে মাঠে নেমেছে।
তিনি বলেন, সামরিক যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে হতাশ হয়ে শত্রু এখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফ্রন্টে সক্রিয় হয়েছে। আমরা স্বীকার করছি, অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তবে অন্যায্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমস্যা সম্পর্কে সরকার অবগত। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি, কিন্তু আমরা হতাশ নই। জনগণের সহযোগিতায় এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আরেফ আরও বলেন, ইরান অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রবেশ করেছে। শত্রুর ধারণা, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে হাঁটু গেড়ে বসানো সম্ভব। কিন্তু ইরানের কাছে পর্যাপ্ত নতুন সমুদ্র, স্থল ও রেলপথের যোগাযোগ রয়েছে। তাই আমরা উদ্বিগ্ন নই। সরকার প্রতিরোধী অর্থনীতি বাস্তবায়ন ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য পরিকল্পনা করছে এবং আমরা নিশ্চিত, এই ফ্রন্টেও শত্রু পরাজিত হবে। কারণ নিষ্ঠুর ও অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা ছাড়া শত্রুর হাতে কার্যকর কোনো নতুন হাতিয়ার নেই।
শেষে আরেফ বলেন, সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধে দেশের বিভিন্ন সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশের সক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে। বেসরকারি খাত ও চেইন স্টোরগুলো ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ও দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। ফলে বাজার ও দোকানগুলোতে পণ্যের সরবরাহ বজায় ছিল।#
পার্সটুডে/এনএম/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।