পেজেশকিয়ান: নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা টেকসই হবে না
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163046-পেজেশকিয়ান_নিরাপত্তা_ছাড়া_অর্থনৈতিক_স্থিতিস্থাপকতা_টেকসই_হবে_না
পার্সটুডে- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ব্রিকস এখন আর শুধু কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো নয়; বরং এটি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান দাবির প্রতীক, যেখানে কোনো একক ক্ষমতাকেন্দ্র অন্যদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রাখবে না।
(last modified 2026-09-13T15:10:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৬:০২ Asia/Dhaka
  • ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

পার্সটুডে- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ব্রিকস এখন আর শুধু কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো নয়; বরং এটি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান দাবির প্রতীক, যেখানে কোনো একক ক্ষমতাকেন্দ্র অন্যদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রাখবে না।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, “স্থিতিস্থাপকতা, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ” শীর্ষক ব্রিকস প্লাসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, আজকের বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো কোনো দেশ একা সমাধান করতে পারে না। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সক্ষমতাগুলোকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে ব্রিকসকে। তিনি বলেন, ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং জ্বালানি ও ট্রানজিট সক্ষমতা ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা টেকসই হবে না।” তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের সামরিক আগ্রাসন, দেখিয়েছে—কোনো দেশের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও উন্নয়ন অবকাঠামোতে হামলার প্রভাব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এসব আগ্রাসনের জন্য ইরানের জনগণকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। নারী, পুরুষ, শিশু ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েক দশক ধরে দেশের উন্নয়নের জন্য গড়ে তোলা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হওয়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।পেজেশকিয়ান বলেন, গাজা ও লেবাননের জনগণও এখনো অপরাধ ও গণহত্যার পরিণতি মোকাবিলা করছে। সামরিক আগ্রাসন, মানুষের হত্যা এবং তাদের জীবন-জীবিকা ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া না থাকলে আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলা অর্থহীন।

তিনি বলেন, এ কারণে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শক্তি প্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা রক্ষায় ব্রিকসকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ব্রিকস এখন আর শুধু কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো নয়; এটি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, যেখানে কোনো ক্ষমতাকেন্দ্র অন্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে না। সমাপনী বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, এই পথে ব্রিকসের সহযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে ইরান প্রস্তুত। তিনি বলেন, সহযোগিতা ছাড়া স্থিতিস্থাপকতা টেকসই হয় না, ন্যায়বিচার ছাড়া সহযোগিতা টেকসই নয় এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।তিনি ব্রিকসকে এসব নীতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার আহ্বান জানান। এমন একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে সবার জন্য প্রবৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সুযোগ থাকবে—শুধু সম্ভবই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।#
 

পার্সটুডে/এমএএআর/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।