আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আতিথেয়তার যোগ্যতা অস্ট্রিয়ার নেই: নাজাফি
-
ভিয়েনায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি
পার্সটুডে-ভিয়েনায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আয়োজক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে অস্ট্রিয়ার নীতি ও কর্মকাণ্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদর দপ্তর আয়োজনের যোগ্যতা অস্ট্রিয়ার নেই।
ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে নাজাফি বলেন, ভিয়েনায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্বাগতিক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে অস্ট্রিয়ার নীতি ও কর্মকাণ্ডের অগ্রহণযোগ্য রেকর্ড প্রমাণ করে যে, এমন মর্যাদা ধারণের যোগ্যতা দেশটির নেই।
এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামিকে সম্মেলনে অংশ নিতে ভ্রমণ-ছাড় দেওয়ার আবেদনে ওয়াশিংটন আপত্তি জানিয়েছিল। তাঁর দাবি, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কমিটির নিয়ম অনুযায়ী এই আপত্তির কারণেই ইসলামিকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রতিনিধি আরও দাবি করেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা ছাড়া ইসলামিকে সম্মেলনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব ছিল না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সম্মেলনকে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধি জানান, ভিয়েনা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে ইসলামিকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এর জবাবে নাজাফি অস্ট্রিয়ার বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ বিকৃত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া প্রস্তাব বা অস্তিত্বহীন কোনো কমিটির উল্লেখ করে স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব লঙ্ঘনের যৌক্তিকতা দেখানো বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের কার্যকারিতা ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটেছে। নাজাফির দাবি, এটি শুধু ইরানের অবস্থান নয়; নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের দেশগুলোরও একই ধরনের আইনি অবস্থান রয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রদূত তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা কমিটির নামে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে আইনি ক্ষমতার সীমার বাইরে এবং পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা পরিষদের প্রক্রিয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘স্ন্যাপব্যাক’ কার্যকর হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, জাতিসংঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের ১১ নম্বর কার্যকরী ধারা জাতিসংঘ সনদের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের বিকল্প হতে পারে না এবং এর কাঠামোর মধ্যেই তা কার্যকর করতে হবে।
ভিসা আবেদনের সময় নিয়ে নাজাফি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধানের ভিসার আবেদন এক মাস আগেই করা হয়েছিল এবং ভিসাও ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে তাঁর প্রবেশ ঠেকানো হয়।
নাজাফির ভাষ্য, ভিসা ইস্যু হওয়াই প্রমাণ করে যে অস্ট্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট শেনজেন দেশগুলো আইনগতভাবে ‘স্ন্যাপব্যাক’ কার্যকর হয়েছে বা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়েছে বলে মনে করে নি। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট দেশের চাপেই ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং পরে এর আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই চাপ এমন একটি দেশ থেকে এসেছে, যারা কয়েক দিন আগেই ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বোর্ড অব গভর্নরসের রাজনৈতিক প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিল এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে।
নাজাফি বলেন, অস্ট্রিয়া সরকারের ওপর তীব্র চাপের বিষয়টি ইরান বুঝতে পারে; তবে সেই চাপ স্বাগতিক দেশের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব লঙ্ঘনের কোনো বৈধতা দেয় না। তিনি আরও বলেন, কোনো একটি দেশের স্বার্থে আইএইএ-কে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি ও স্বাগতিক দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত।#
পার্সটুডে/এনএম/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।