পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা: ইরানি সংসদে প্রতিবেদন পেশ
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন বিষয়ে ইরানের সংসদ মজলিশে শূরায়ে ইসলামীর জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশন গত ছয় মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গতকাল(রবিবার) সংসদে ওই প্রতিবেদন পড়ে শোনানো হয়। এত বলা হয়েছে, পরমাণু ক্ষেত্রে আস্থা অর্জনের জন্য অস্থায়ীভাবে ইরানের যেসব পরমাণু কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে তা ইরান পুরোপুরি মেনে চলছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা বললেও আমেরিকার প্রভাবশালী মহল ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল রাখার চেষ্টা করছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা হলেও তাতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জানা যায়, মার্কিন সরকার অন্তত ১১টি ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এমনকি পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত শনিবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোর ইরান সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের একই সময়ে তিনি ফ্রান্সের লা মন্ড পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। পরমাণু সমঝোতার পর আমানো এর আগে প্রকাশিত তিনটি প্রতিবেদনেও স্বীকার করেছেন, প্রতিশ্রুতি পালনে ইরান তার আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছে।
পরমাণু সমঝোতার অন্যতম দিক হচ্ছে, ইরানের ওপর থেকে অবশ্যই পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেয়া সমস্ত অন্যায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পরমাণু ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ইরানের ব্যাংক, বিমা, যোগাযোগসহ সমস্ত ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটার কথা। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের কাজেকর্মে ও আচরণে প্রমাণিত হয়েছে, তারা এখনো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে চায়। ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকা নতুন করে আরো তিনটি অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন এবং বলেছেন এ বিষয়ে সমাধানে আসতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে বলেছেন, আমেরিকা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রেখেছে।
মার্কিন সরকার সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত থাকার কারণেই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ইউরোপের কোনো নাগরিক যদি ইরান সফর করে তাহলে তাদের আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা দেয়া হবে না বলে হোয়াইট হাউজ জানিয়ে দেয়। এর ফলে ইউরোপের কেউ ইরানে আসার সাহস পাচ্ছে না। আমেরিকার কয়েকটি স্থানীয় আদালতও সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইরানের পাওনা অর্থ আটকে দিয়েছে।
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রেসিডেন্ট রুহানিকে লেখা চিঠিতে বলেছিলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর কোনো কোনো সদস্যকে বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে তিনি অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৩১