"সামরিক কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ না দিলে পরমাণু সমঝোতা অর্থহীন"
পরমাণু সমঝোতাকে বানচাল করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র ওপর নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, ইরান তার সামরিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে না অথচ আইএইএ জানিয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। রাশিয়াও ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আইএইএ'র পরিদর্শনে বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে নিকি হ্যালি বলেন, কয়েকটি দেশ ইরানকে রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক স্থাপনায় পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া না হলে পরমাণু সমঝোতা একেবারেই অর্থহীন।
এদিকে, আমেরিকার পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোও চলতি সপ্তাহে নিজেদের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমানোর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার তার নেই বরং আমানোর উচিত পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি একমাস আগে ভিয়েনা সফরে গিয়ে আইএইএ'র প্রধানের সঙ্গে দেখা করে ইরানের ব্যাপারে এই সংস্থার কাজেকর্মে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তিনি দাবি করেন, পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে যেসব শর্ত বেধে দেয়া হয়েছে তা স্বচ্ছ নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা তার ইচ্ছা মতো পরমাণু সমঝোতার নতুন সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এমন অবস্থানে নেই যে, নিজ ইচ্ছা মতো আইএইএর ওপর সহজে মার্কিন নীতি চাপিয়ে দিতে পারবেন। ইরান ইস্যুতে আমেরিকা শুধু যে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে তাই নয় একই সঙ্গে খোদ মার্কিন রাজনৈতিক মহলও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণে শঙ্কিত।
আমেরিকার সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস কান্ট্রিম্যান পরমাণু সমঝোতাকে বানচাল করে দেয়ার পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক কথাবার্তার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকাই কোণঠাসা হয়ে পড়বে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান মোগেরিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং এর প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও সমর্থন রয়েছে। এমনকি আইএইএও ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স মন্তব্য করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরমাণু সমঝোতা বিরোধী নীতি আমেরিকাকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ আল জাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে আমরাও ছেড়ে দিয়ে কথা বলব না।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৯