ইরান ইস্যুতে শিগগিরি আসছে ট্রাম্পের চূড়ান্ত ঘোষণা: চিন্তিত সারা বিশ্ব
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i47263-ইরান_ইস্যুতে_শিগগিরি_আসছে_ট্রাম্পের_চূড়ান্ত_ঘোষণা_চিন্তিত_সারা_বিশ্ব
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে এ ব্যাপারে নানা কূটনৈতিক তৎপরতা ততই জোরদার হচ্ছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
অক্টোবর ১০, ২০১৭ ১২:৪৭ Asia/Dhaka

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে এ ব্যাপারে নানা কূটনৈতিক তৎপরতা ততই জোরদার হচ্ছে।

গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ১২ অক্টোবর ইরানের  ব্যাপারে তার সরকারের অবস্থান ঘোষণা করবেন বলে কথা রয়েছে। তার সিদ্ধান্ত বা ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন কংগ্রেস ১৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে না এমন দাবি করে কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ পরমাণু ক্ষেত্রে ইরান তার প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে বলে আটবার স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেন তাহলে তার অর্থ হবে পরমাণু সমঝোতার মৃত্যু। অথচ এ চুক্তির প্রতি ছয় জাতিগোষ্ঠী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। 

এদিকে, মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলোসহ অন্যান্য প্রায় সব দেশ পরমাণু সমঝোতা ধ্বংস না করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কোনো কোনো দেশ ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিবর্তে জংলি আইনের প্রবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আবার কোনো কোনো মহল পরমাণু সমঝোতার মৃত্যুকে আগুন নিয়ে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে পরমাণু সমঝোতা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য বিরাট পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকায় সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন সরকারের এ বেআইনি পদক্ষেপ সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এরপর থেকে কোনো দেশই এমনকি আমেরিকার মিত্র দেশগুলোও ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর আর কোনো আস্থা রাখতে পারবে না। এরপর থেকে পারস্পরিক অবিশ্বাস, অনাস্থার মাত্রা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

পরমাণু সমঝোতার পর ইউরোপসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কোটি কোটি ডলার পুঁজি বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় কিংবা এ চুক্তির কোনো ক্ষতি করে তাহলে নিঃসন্দেহে অন্য বহু দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া, পরমাণু সমঝোতাকে হত্যা করা হলে কিংবা এর কোনো ক্ষতি করা হলে শুধু যে আমেরিকার ইরান বিদ্বেষী মনোভাব ফুটে উঠবে তাই নয় একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং সারা বিশ্বের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হবে।#  

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১০