পরমাণু সমঝোতা বাতিল প্রশ্নে ট্রাম্পের পর এবার পিছু হটল কংগ্রেস
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতাকারী মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটে গেছেন। সিনেটর বব কুরকার জানিয়েছেন, পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান বলেছেন, সিনেটর টম ক্যাটেনের সঙ্গে তিনি পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার যে পরিকল্পনা বা নীতিমালা প্রস্তুত করেছিলেন তাতে অন্তত ৫০ জন সিনেটের সমর্থন প্রয়োজন হত। কিন্তু তা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে। সিনেটর বব কুরকার ও সিনেটর টম ক্যাটেন তাদের প্রস্তাবিত পরমাণু চুক্তির নীতিমালা কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন যাতে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আবারো ফিরিয়ে আনা যায়। তারা প্রস্তাব করেছিলেন ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা আবারো বলবত হবে ওই দেশটির বিরুদ্ধে। তাদের এ পরিকল্পনার প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনেরও সমর্থন ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতাকারীরা গত কয়েক সপ্তাহে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও তাদের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রিপাবলিকান দলের ৫২ জন সিনেটরের সমর্থনও পায়নি। সিনেটর কুরকার ও টম ক্যাটেনের পরিকল্পনা পরমাণু সমঝোতার নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ার কারণেই মূলত এটি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। কারণ পরমাণু সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অর্থই হচ্ছে পরমাণু সমঝোতার মৃত্যু। এ কারণে শুধু যে ডেমোক্র্যাট দলের কোনো সদস্যই কুরকার ও টম ক্যাটেনের প্রস্তাবে সমর্থন জানাননি তাই নয় একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর শক্ত অবস্থানের কারণেও পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সাবেক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোন বলেছেন, "মার্কিন কংগ্রেস যদি পরমাণু সমঝোতা মেনে না নেয় তাহলে প্রমাণিত হবে ওই দেশটি আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির প্রতিই শ্রদ্ধাশীল নয়।"
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতার বিরোধী মহলটি এখনো এই চুক্তি ধ্বংসের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার অর্থ হচ্ছে যে কোনো অজুহাতে ইরানকে দুর্বল করা। উদাহরণ স্বরূপ, কংগ্রেস অপারমানবিক বিষয়ে অর্থাৎ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কিংবা পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য অন্য একটি প্রস্তাব পাশের চেষ্টা করছে। যাতে পরমাণু সমঝোতা টিকে থাকলেও এর সুফল যেন ইরান খুব একটা না পায় এবং যাতে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিনেটর কারকুর পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে বোঝা যায়, নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া আন্তর্জাতিক এই চুক্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে পরমাণু সমঝোতা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি কংগ্রেসের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসও আন্তর্জাতিক এ চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১০