আতঙ্কে ইসরাইল: সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ইরানকে দায়ী করল আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i53053-আতঙ্কে_ইসরাইল_সিরিয়ায়_অস্থিতিশীলতা_সৃষ্টিতে_ইরানকে_দায়ী_করল_আমেরিকা
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার পথে প্রধান বাধা। সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার প্রায় এক সপ্তাহ পর ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করল আমেরিকা।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ ১৫:২৬ Asia/Dhaka

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার পথে প্রধান বাধা। সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার প্রায় এক সপ্তাহ পর ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করল আমেরিকা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান আল সাফাদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এবং সিরিয়া বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি তেহরানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন। তারা সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর সিরিয়ার ব্যাপারে ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের হিসেব নিকেশ পাল্টে গেছে এবং ইসরাইল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিমান ভূপাতিত করার পর দখলদার ইসরাইল ও মিত্রদেরকে এ বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে যে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে একতরফা হামলার দিন শেষ হয়ে গেছে এবং শত্রুদের যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপ বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া হবে না।

বাস্তবতা হচ্ছে, সিরিয়ায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলা, দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার নামে সিরিয়ার কুর্দিদের প্রতি মার্কিন সমর্থন ও হস্তক্ষেপের কারণেই মূলত সমগ্র ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। সিরিয়ায় আমেরিকার বেআইনি উপস্থিতি এবং ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সমর্থনের কারণে সন্ত্রাসীরা এখনো তৎপর রয়েছে। অন্যদিকে, সিরিয়ার বৈধ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের আহবানে সাড়া দিয়ে ইরান সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কিন্তু সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট নয়।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি কুয়েতে অনুষ্ঠিত দায়েশ বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বলেছেন, "এই জোট সন্ত্রাসীদের আয়ের উৎস বন্ধে কোনো চেষ্টাই করেনি এবং দুঃখজনকভাবে সন্ত্রাস বিরোধী কথিত এই জোটের কিছু কিছু নীতি থেকে বোঝা যায়, তারাই সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের প্রকৃত কারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট যদি সত্যিই সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার চেষ্টা করত তাহলে সিরিয়া ও ইরাকে বহু আগে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হত। কিন্তু সিরিয়া সংকট শুরুর পর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তারা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে পারেনি বরং প্রমাণিত হয়েছে যে, সিরিয়াসহ সমগ্র ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে আমেরিকা ও তার মিত্রদের হাত রয়েছে। কারণ সিরিয়া ও তার মিত্র বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে যখনই সন্ত্রাসীদেরকে কোণঠাসা করে ফেলেছে তখনই আমেরিকা সন্ত্রাসীদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে দায়েশ সন্ত্রাসীরা যখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল তখন আমেরিকা দায়েশকে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিল। এ ব্যাপারে সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ বলেছেন, আমেরিকা বিমানে করে রাকা ও দেইর আয জোর থেকে পলাতক দায়েশ সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। তিনি সিরিয়ায় মার্কিন কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহবান জানান। কারণ আমেরিকার আচরণ সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি।  

যাইহোক, বর্তমানে সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার জন্য ইরাক কিংবা সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি মোটেও দায়ী নয় বরং আমেরিকা ও তার মিত্রদের বেআইনি কর্মকাণ্ডই সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫