নিন্দা জানাল ওআইসি, হামাস ও বেশ কয়েকটি ইসলামি দেশ
অধিকৃত জেরুজালেমে ‘সোমালিল্যান্ড’ দূতাবাস উদ্বোধন; আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদের ঢেউ
-
ইহুদিবাদী ইসরায়েল অধিকৃত আল-কুদস শহরে তথাকথিত সোমালিল্যান্ডের দূতাবাস
পার্সটুডে: অধিকৃত কুদস্ জেরুজালেমে তথা মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসে তথাকথিত “সোমালিল্যান্ড” অঞ্চলের দূতাবাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিবাদ, নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি, ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ এই পদক্ষেপকে আইনি বা রাজনৈতিক বৈধতাবিহীন বলে অভিহিত করেছে। তারা এটিকে জেরুজালেমের মর্যাদা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
অধিকৃত জেরুজালেম-কুদস শহরে তথাকথিত “সোমালিল্যান্ড” অঞ্চলের দূতাবাস উদ্বোধন ফিলিস্তিন, আরব বিশ্ব এবং ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে নিন্দা ও বিরোধিতার ঢেউ তুলেছে। বিরোধীরা জোর দিয়ে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবনার পরিপন্থী।
এ প্রেক্ষাপটে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র মহাসচিবালয় এক বিবৃতিতে এই দূতাবাস উদ্বোধনের নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে এই পদক্ষেপ অবৈধ, বাতিল এবং এর কোনো আইনি প্রভাব নেই।
সংস্থাটি আরও বলেছে যে অধিকৃত জেরুজালেম শহরের ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং শহরটির আইনি, রাজনৈতিক বা জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী অকার্যকর ও অবৈধ।
ওআইসি সোমালিয়া সরকারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হামাসে এই পদক্ষেপকে একটি রাজনৈতিক ভুল এবং আন্তর্জাতিক রীতি ও আইনের বিপজ্জনক লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে যে অধিকৃত জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা ফিলিস্তিন প্রশ্নে আরব ও ইসলামি বিশ্বের অভিন্ন অবস্থানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং শহরটির দখলকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে নেয়া ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক বৈধতা দেয়ার শামিল।
হামাস আরও বলেছে, দখলদারিত্বকে বৈধতা দেয়া বা জেরুজালেমকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটি আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে এমন বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিত্ব এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। জেরুজালেম আল-কুদসকে ইসরায়েলের দখলে থাকা শহর তথা একটি অধিকৃত শহর বলে ফিলিস্তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বৈধতার কাঠামোর বাইরে শহরটিতে প্রতিষ্ঠিত যেকোনো কূটনৈতিক মিশন বা প্রতিনিধিত্ব আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বা ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করা যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
এদিকে তুরস্ক, মিশর, কাতার, জর্দান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশও এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। এই দেশগুলো বলেছে, জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করে বা শহরটিতে ইসরায়েলি শাসনকে বৈধতা দেয়—এমন যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি সংস্থা এই বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতি একটি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। সেই ঐকমত্য অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেম ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ এবং শহরটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে, একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।
এই ব্যাপক বিরোধিতা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে যখন সন্ত্রাসী ইসরায়েলি শাসক-চক্র কিছু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিবিহীন পক্ষ ও সত্তার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে জেরুজালেমের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এ ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অধিকৃত জেরুজালেমে তথাকথিত “সোমালিল্যান্ড” দূতাবাস উদ্বোধন শহরটির আইনি মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং ইসরায়েলি নীতির জন্য কোনো বৈধতা সৃষ্টি করবে না। বরং এটি আরও বেশি আন্তর্জাতিক নিন্দা ও বিচ্ছিন্নতার কারণ হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন ও জেরুজালেমের ঐতিহাসিক পরিচয় এবং আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতাকে আরও জোরালো করবে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।